রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮০ সালে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার অর্ন্তগত পায়রাবন্দ গ্রামে। তার পিতা জহীরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের একজন শিক্ষিত জমিদার ছিলেন। তার মাতা ছিলেন রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানী। তার দুই বোন করিমুননেসা ও হুমায়রা, আর তিন ভাই যাদের একজন শৈশবে মারা যায়।
যদিও তাকে বাংলায় নারীমুক্তির পথিকৃৎ বলা হয়। কিন্তু তার বেশ কিছু লেখনীতে ঘোর ধর্মবিরোধীতা বিশেষ করে ইসলাম ধর্ম বিরোধিতা প্রকাশ পেতে দেখেছি।
Hsc তে পড়ার সময় আমাদের রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের একটা রচনার কিছু অংশ পড়ানো হয়েছিল। পরীক্ষায় আসতে পারে বলে ইম্পর্ট্যান্ট একটা প্রশ্ন ছিল এরকম যে, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন পর্দা প্রথার বিরোধী ছিলেন না! এটা কী জন্য দাবি করা হয়েছিল বা আমাদের কাছে কেন তাকে এত মহান করে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল আমার কাছে বিষয়টা অস্পষ্ট। কারণ কৌতহল বশত তার “অবরোধবাসিনী” বই টা পড়েছিলাম। বেশ কিছু জায়গায় রাগে হাত মুষ্টি হয়ে যাচ্ছিল।
বইয়ের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা যেগুলো ছিল সেগুলো ছিল মাত্রাতিরিক্ত exaggerated, শুধুই পর্দা প্রথা কে জঘন্য প্রমাণের জন্য। উনি ওনার লেখায় বুঝাতে চেয়েছিলেন তৎকালীন মুসলিম নারী সমাজে উনি ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন বুদ্ধিহীন জড়বস্তু ! একমাত্র ঘট ভরা বুদ্ধি নিয়ে তিনিই জন্ম গ্রহণ করেছিলেন। মোট কথা, অবরোধ-বাসিনীতে (১৯৩১) তিনি অবরোধপ্রথাকে বিদ্রূপবাণে জর্জরিত করেছেন।
তাকে নারীশিক্ষার পথিকৃৎ মনে করা হলেও এই ইনফরমেশনে গলদ আছে। কারণ ভারতবর্ষে নারী শিক্ষার প্রসারে প্রথম এবং প্রধান ভূমিকা পালন করেন সাবিত্রীবাই ফুলে, যিনি ১৮৪৮ সালে পুনেতে ভারতের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার স্বামী জ্যোতিবা ফুলের সাথে মিলে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেন, এবং তাকে আধুনিক ভারতের প্রথম মহিলা শিক্ষক ও নারী শিক্ষার পথিকৃৎ বলা হয়।
সাবিত্রীবাই ফুলের অবদান:
প্রথম বালিকা বিদ্যালয়: তিনি ১৮৪৮ সালে পুনেতে মেয়েদের জন্য প্রথম বিদ্যালয় খোলেন, যা ছিল সেই সময়ে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
প্রথম মহিলা শিক্ষক: তিনি ভারতের প্রথম মহিলা শিক্ষক হিসেবে পরিচিত, যিনি মেয়েদের শিক্ষা দিতে এগিয়ে এসেছিলেন।
সামাজিক আন্দোলন: তিনি তার স্বামীর সাথে মিলে সমাজে নারী অধিকার ও শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়াও ছিলেন মুসলিম নারীদের মধ্যে নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী: তিনি নারী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনহিতকর কাজে অবদান রাখেন এবং সাহিত্যচর্চাও করতেন।
রোকেয়ার ধর্মবিমুখতার অনুসন্ধান করলেই দেখা যাবে তার পরিচয়। কেউ নারীবাদী হোক বা নাস্তিক সেটা তার ব্যক্তিগত নির্বাচন, কিন্তু আমার আপত্তি হলো সেই ব্যক্তিগত নির্বাচনকে সমষ্টিক ভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে এবং পুরুষবিদ্বেষী চেতনায় সমাজ কে জাগ্রত করার চেষ্টায় রত একজন পথভ্রষ্ট কে মুসলিম নারী জাগরণের পথিকৃৎ বলে - মুসলিম নারী সমাজকে বুদ্ধিহীন, অকৃতজ্ঞ প্রমাণের চেষ্টা করা হয়েছে।
তার রচনায় ধর্ম বিমুখতা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। বর্তমানে যারা মুসলিম নারীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ কে ধর্মের দোষে দুষ্ট বলার চেষ্টা করেন ঠিক তাদের মত করে তিনি কথা বলতেন। দুঃখজনক হলেও সত্য বর্তমান যুগে যারা নারীশিক্ষা এবং ইসলামের ব্যাপারটা নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তাদের যেমন ইসলাম নিয়ে কোনো জ্ঞান নাই। ঠিক তেমনি বেগম রোকেয়ার ইসলাম নিয়ে কোনো জ্ঞান ছিল না। সেটা তার লেখাতে স্পষ্ট -
“কোনো ভগ্নী মস্তক উত্তোলন করিয়াছেন, অমনি ধর্মের দোহাই বা শাস্ত্রের বচন-রূপ অস্ত্রাঘাতে তাঁহার মস্তক চূর্ণ হইয়াছে। … আমাদিগকে অন্ধকারে রাখিবার জন্যে পুরুষগণ এই ধর্মগ্রন্থগুলি ইশ্বরের আদেশ বলিয়া প্রচার করিয়াছেন। … এই ধর্মগ্রন্থগুলি পুরুষরচিত বিধিব্যবস্থা ভিন্ন কিছুই নহে। মুনিদের বিধানে যে কথা শুনিতে পান, কোনো স্ত্রী-মুনির বিধানে হয়ত তাঁহার বিপরীত নিয়ম দেখিতে পাইতেন। … ধর্ম আমাদের দাসত্বের বন্ধন দৃঢ় হইতে দৃঢ়তর করিয়াছে; ধর্মের দোহাই দিয়া পুরুষ এখন রমণীর উপর প্রভুত্ব করিতেছেন।”
— বেগম রোকেয়া, ১৯০৪
বেগম রোকেয়া অকৃতজ্ঞও ছিলেন বটে কারণ বেগম রোকেয়ার শিক্ষালাভ, সাহিত্যচর্চা এবং সামগ্রিক মূল্যবোধ গঠনে বড় দু’ভাই ও বোন করিমুন্নেসার যথেষ্ট অবদান ছিল।
এরপর ১৮৯৮ সালে রোকেয়ার বিয়ে হয় বিহারের ভাগলপুর নিবাসী উর্দুভাষী সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। তিনি ছিলেন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। স্বামীর উৎসাহ ও সহযোগিতায় রোকেয়া দেশি-বিদেশি লেখকদের রচনার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত হবার সুযোগ পান এবং ক্রমশ ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। তার সাহিত্যচর্চার সূত্রপাতও ঘটে স্বামীর অনুপ্রেরণায়। এত অনুপ্রেরণা সত্ত্বেও বেচারার জন্য আমার কষ্ট হয় কারণ তার স্ত্রী তার সেই অবদান কে স্বীকার পর্যন্ত করেন নাই উল্টা রচনা করেছেন -
“পুরুষের সমকক্ষতা লাভের জন্য আমাদিগকে যাহা করিতে হয়, তাহাই করিব। যদি এখন স্বাধীনভাবে জীবিকা অর্জ্জন করিলে স্বাধীনতা লাভ হয়, তবে তাহাই করিব। আবশ্যক হইলে আমরা লেডীকেরাণী হইতে আরম্ভ করিয়া লেডীমাজিস্ট্রেট, লেডীব্যারিস্টার, লেডীজজ — সবই হইব!… উপার্জ্জন করিব না কেন?… যে পরিশ্রম আমরা “স্বামী”র গৃহকার্য্যে ব্যয় করি, সেই পরিশ্রম দ্বারা কি স্বাধীন ব্যবসায় করিতে পারিব না?… আমরা বুদ্ধিবৃত্তির অনুশীলন করি না বলিয়া তাহা হীনতেজ হইয়াছে। এখন অনুশীলন দ্বারা বুদ্ধিবৃত্তিকে সতেজ করিব। যে বাহুলতা পরিশ্রম না করায় হীনবল হইয়াছে, তাহাকে খাটাইয়া সবল করিলে হয় না?”
— বেগম রোকেয়া, ১৯০৪
রোকেয়া তার নারীবাদী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন মতিচূর প্রবন্ধসংগ্রহের প্রথম (১৯০৪) ও দ্বিতীয় খণ্ডে (১৯২২)। সুলতানার স্বপ্ন (১৯০৫), পদ্মরাগ (১৯২৪), অবরোধবাসিনী (১৯৩১) ইত্যাদি তার সৃজনশীল রচনা যেখানে সে খুবই কুৎসিতভাবে পর্দা প্রথা কে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন। কাল্পনিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মুসলিম নারীসমাজকে জড়বস্তু প্রমাণে সচেষ্ট হয়েছেন।
তার সুলতানার স্বপ্নকে বিশ্বের নারীবাদী সাহিত্যে একটি মাইলফলক ধরা হয়। তিনি যে টক্সিক নারীবাদী ছিলেন সেটাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নাই।
গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হবার আগে তার লেখাগুলো নবনূর, সওগাত, মোহাম্মদী ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
তার প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গসমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন।
হাস্যরস আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের সাহায্যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অসম অবস্থান ফুটিয়ে তুলেছেন। ব্যঙ্গ- বিদ্রুপ করতে গিয়ে তিনি ভুলেই গেছেন যে বিধান কে নিয়ে এত হাসি তামাশা করেছেন, সেই বিধান তিনি নিজেই ঠিক মত জানতেন না। মানতেন যে মোটেও না, সেটা তার ছবি দেখলেই যে কেউ বুঝবে।
তার রচনা দিয়ে তিনি সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, ধর্মের নামে নারীর প্রতি অবিচার রোধ করতে চেয়েছেন ভুল ভাবে ইসলাম কে ব্যাখ্যা করে। শিক্ষা আর পছন্দানুযায়ী পেশা নির্বাচনের সুযোগ ছাড়া যে নারী মুক্তি আসবে না —তা বলেছেন যেটার সাথেও ইসলামে বিরোধ আছে। ইসলামে নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে কিছুই বলা হয় নাই। তবে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষা ব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রের কথা বলা হয়েছে। মুসলিম নারী উপযুক্ত পরিবেশ পেলে, তার জীবনের প্রায়োরিটি ঠিক রেখে অর্থ উপার্জন করতে পারে। কিন্তু সেটাই তার মুখ্য কাজ নয়। সে কাজ আল্লাহ্ পুরুষকে দিয়েছেন। জেন্ডার রোল ঠিক করেই দেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজন পড়লে নারীরা নারীদের জন্য উপযোগী কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু সেটাই তার একমাত্র অর্থপূর্ণ ও মর্যাদার কাজ বলে গণ্য করার কোনো সুযোগ নাই।
কুরআনে “পুরুষকে কাওয়াম” বলা হয়েছে সূরা নিসা ৪:৩৪-এ —
“الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ” —
অর্থ: “পুরুষরা নারীদের উপর দায়িত্বশীল/রক্ষণকর্তা।”
পুরুষকে ‘কাওয়াম’ বলা হওয়ার মূল কারণগুলো
১. দায়িত্ব ও নেতৃত্বের দায়ভার
পরিবারকে পরিচালনা, সুরক্ষা দেওয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং সংকটে এগিয়ে আসা—এ দায়িত্ব আল্লাহ পুরুষের ওপর দিয়েছেন।
২. আর্থিক দায়িত্ব
স্ত্রী‐সন্তানদের ভরণপোষণ, বাসস্থান, পোশাক, নিরাপত্তা—এ সব কিছু প্রদান করা পুরুষের ফরজ দায়িত্ব।
কাওয়ামী হওয়ার অন্যতম কারণ হলো “بِمَا أَنفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ” — অর্থাৎ “পুরুষরা নিজেদের সম্পদ ব্যয় করে।”
৩. শারীরিক সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের উপযোগিতা
সাধারণভাবে পুরুষকে শারীরিকভাবে শক্তিশালী বানানো হয়েছে যাতে পরিবার রক্ষা, উপার্জন, এবং কঠিন দায়িত্ব পালন করতে পারে।
৪. পরিবারের স্থিতি ও ভারসাম্য রক্ষা
কাওয়াম মানে কর্তৃত্ব নয়; বরং দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, যেখানে ন্যায়, করুণা, ও সাহায্য—এই তিনটি প্রধান গুণ থাকা জরুরি।
পরিবারকে স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখার দায়িত্ব তার।
কাওয়াম মানে এটা নয় কখনই যে স্বামী -
স্ত্রীর উপর জুলুম করার অধিকার পেয়ে গেলেন বা এতে নারীর ক্ষমতা বা মর্যাদা কম অথবা একতরফা আধিপত্য বরং ন্যায়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন।
কাওয়াম বলা হয়েছে কারণ পুরুষকে পরিবার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সুরক্ষা এবং আর্থিক দায়িত্ব বহনের জন্য উপযোগী করে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তার ওপর আল্লাহ এসব দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এখন যে সকল পুরুষ তার দায়িত্ব পালন করে না, সে গুনাহগার। তারজন্য পুরা মুসলিম পুরুষ জাতিকে দোষারোপ করা বা ঘৃণার চোখে দেখার কোনো সুযোগ নাই। কিন্তু রোকেয়া আদর্শে আদর্শিত হলে আর সেই simple যুক্তি মাথায় ঢুকবে না।
রোকেয়া নারীদের “ সন্তান জন্মদানের যন্ত্র” উল্লেখ করেছেন তার লেখায়। সেটাও টক্সিক নারীবাদ এর ধারণার সাথে খাপে খাপ মিলে যায়।
রোকেয়া অলঙ্কারকে দাসত্বের প্রতীক বিবেচনা করেছেন এবং নারীদের অলঙ্কার ত্যাগ করে আত্মসম্মানবোধে উজ্জীবিত হয়ে আর্থরাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে সচেষ্ট হতে আহ্বান জানিয়েছেন অর্থাৎ নারীর সহজাত প্রবৃত্তি সৌন্দর্য চর্চায় ওনার আপত্তি ছিল। টক্সিক নারীবাদ অবশ্যই। কারণ নারীবাদীরা “নারী সুলভ” হাওয়াটাকেই একটা সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে।
তার লেখায় আমরা পাই -
“আমরা বহুকাল হইতে দাসীপনা করিতে করিতে দাসীত্বে অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। ক্রমে পুরুষরা আমাদের মনকে পর্য্যন্ত দাস করিয়া ফেলিয়াছে।… তাহারা ভূস্বামী গৃহস্বামী প্রভৃতি হইতে হইতে আমাদের “স্বামী” হইয়া উঠিয়াছেন।… আর এই যে আমাদের অলঙ্কারগুলি– এগুলি দাসত্বের নিদর্শন। … কারাগারে বন্দিগণ লৌহনির্ম্মিত বেড়ী পরে, আমরা স্বর্ণ রৌপ্যের বেড়ী পরিয়া বলি “মল পরিয়াছি। উহাদের হাতকড়ী লৌহনির্ম্মিত, আমাদের হাতকড়ী স্বর্ণ বা রৌপ্যনির্ম্মিত “চুড়ি!”… অশ্ব হস্তী প্রভৃতি পশু লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকে, সেইরূপ আমরা স্বর্ণশৃঙ্খলে কণ্ঠ শোভিত করিয়া বলি “হার পরিয়াছি!” গো-স্বামী বলদের নাসিকা বিদ্ধ করিয়া “নাকা দড়ী” পরায়, আমাদের স্বামী আমাদের নাকে “নোলক” পরাইয়াছেন। অতএব দেখিলে ভগিনি, আমাদের ঐ বহুমূল্য অলঙ্কারগুলি দাসত্বের নিদর্শন ব্যতীত আর কিছুই নহে! … অভ্যাসের কি অপার মহিমা! দাসত্বে অভ্যাস হইয়াছে বলিয়া দাসত্বসূচক গহনাও ভালো লাগে। অহিফেন তিক্ত হইলেও আফিংচির অতি প্রিয় সামগ্রী। মাদক দ্রব্যে যতই সর্বনাশ হউক না কেন, মাতাল তাহা ছাড়িতে চাহে না। সেইরূপ আমরা অঙ্গে দাসত্বের নিদর্শন ধারণ করিয়াও আপনাকে গৌরবান্বিতা মনে করি। … হিন্দুমতে সধবা স্ত্রীলোকের কেশকর্ত্তন নিষিদ্ধ কেন? সধবানারীর স্বামী ক্রুদ্ধ হইলে স্ত্রীর সুদীর্ঘ কুম্ভলদাম হস্তে জড়াইয়া ধরিয়া উত্তম মধ্যম দিতে পারিবে। … ধিক আমাদিগকে!আমরা আশৈশব এই চুলের কত যত্ন করি! কি চমৎকার সৌন্দর্য্যজ্ঞান!”
যে স্বামী ওনাকে এতটা অনুপ্রেরণা দিলো! যার স্মৃতিতে সে মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করলো, সেই স্বামী পদটিকেই বিভিন্ন রচনায় খলনায়ক চরিত্রে বসাতে ওনার কষ্ট হয় নাই। আশ্চর্য! ওনার লেখার ধরন অনুকরণ করেই বলতে চাই -
ধিক! এরকম অকৃতজ্ঞ নারী ও তাকে মহান বানানোর কারিগরদের।