কেউ যখন আল্লাহকে খুশি করতে ভাল কিছু করার নিয়ত করে, তখন আল্লাহর তরফ থেকে এত সুন্দর উদাহরণ চলে আসে! সুবহান আল্লাহ!

২০১৫ সালে ম্যাটার্নিটি লিভে থাকার সময় আমার দুজন ফ্রেন্ডকে দেখে রীতিমত অবাক হয়েছিলাম। একজন হল আমার স্কুল ফ্রেন্ড, আরেকজন কলেজ ফ্রেন্ড। দুজনই ময়দার মত ফর্সা, আর বেশ সুন্দরী মাশা আল্লাহ। এই দুজনই নিজেদের এই সৌন্দর্য শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বোরখা আর নেকাব করে পরপুরুষদের থেকে আড়াল করে রাখে। আমি ওদের ছবি দেখতাম আর ভাবতাম, “ওরা দুজন এত্ত সুন্দরী মাশা আল্লাহ, আমি তো ওদের কাছে কিছুই না! ওরা ওদের এত সুন্দর চেহারা আল্লাহর খুশীর জন্য ঢেকে রাখছে, আমি কেন পারছি না?!”

আমি আল্লাহর কাছে দু’য়া চাইতে শুরু করলাম।

আমি তাদের কালো বোরখায় আবৃত করা দেখে আল্লাহকে এটাই বলেছিলাম, “আল্লাহ, ওরা দেখতে এত সুন্দর হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের সৌন্দর্য দুনিয়ার মানুষের কাছে প্রকাশ না করে, তোমার দেওয়া বিধান অনুযায়ী তোমাকে ভালবেসে নিজেদের সৌন্দর্য ঢেকে রাখছে। তাহলে আমি তোমাকে ভালবেসে কেন পরিপূর্ণভাবে পর্দা করতে পারছি না! তুমি আমার জন্য পর্দা করা সহজ করে দাও।”

আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহর অশেষ কৃপা যে উনি উনার রহমতের ছায়ায় আমার মত নগণ্য বান্দাকে স্থান দিয়েছেন। উনি আমার জন্য এই বোরখা আর নেকাব করা সহজ করে দিয়েছেন, আলহামদুলিল্লাহ।

এরপর আল্লাহ এক নও-মুসলিম বোনের পর্দা করা আমাকে দেখালেন হজ্জ সফরে গিয়ে৷ সুবহান আল্লাহ! আল্লাহ যেন আমাকে দেখানোর জন্যই সেই নও-মুসলিম আপুকে মুজিজা হিসেবে আমার সামনে পাঠিয়েছিলেন!

আরেকজন আপুর কথা না বললেই নয়। আপু টা আমার বোনের ফ্রেন্ড। আমার স্কুল, কলেজ লাইফে সেই আপু অনেক কিছু নিয়েই আমাকে বুঝাতেন। নিশ্চয়ই আপু উনার মুনাজাতে আমার ও আমার পরিবারের জন্য দু’য়া করতেন৷ উনার দু’য়ায় আল্লাহ আমাকে কিছুটা হলেও দ্বীনের বুঝ দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ৷

আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর দয়া এমনই৷ আপনি এক বিঘত আল্লাহর দিকে আগালে, আল্লাহ আপনার দিকে এক হাত এগিয়ে আসবেন।

আবূ হুরাইরাহ (রা:) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা:) বলেছেন, “আল্লাহ বলেন, “আমি সেইরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি, যখন যে আমাকে স্মরণ করে। আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার তওবায় তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বেশি খুশী হন, যে তার মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া বাহন ফিরে পায়।

আর যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। যে আমার দিকে এক হাত পরিমাণ অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত পরিমাণ অগ্রসর হই। আর সে যখন আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তখন তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।”

(বুখারী ও মুসলিম)