জাহেলি যুগে জীবন্ত কন্যা শিশু মাটি চাপা দিয়ে হত্যা করার কথা কে না জানে। সেই কত বছর পূর্বেকার কথা! তবুও মানুষ মনে রেখেছে। নারীর প্রতি চরম অবমূল্যায়ন বোঝাতে অনেকেই এই উদাহরণ টা টেনে থাকেন। অথচ নব্য জাহেলিয়াতের খবর পত্রিকার পাতার ছোট্ট একটা কোণে‌ পড়ে থাকে।

নিয়মিত পত্রিকা পড়ে না থাকলে গুগলে একটু সার্চ করে দেখতে পারেন। ভার্সিটির পাশে ময়লার স্তূপে নবজাতক! বুয়েট থেকে শুরু করে দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় সমূহের ময়লার স্তূপে নবজাতক! আর এ সংখ্যা একটি নয়; শত শত, হাজার হাজার। মেডিকেল কলেজগুলোর কথা বাদই দিলাম।

ভাবতে পারেন? দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে উচ্চ শিক্ষা দেওয়া হয়, মানুষ গড়া হয়। সেখানকার ময়লার স্তূপ থেকে নাকি নবজাতকের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসে!কখনো পলিথিনে মোড়ানো, কখনো বা রাস্তার কুকুরের মুখে রক্ত মাংসে গড়া একটা মানুষ! চিন্তা করা যায়! যেটা ভাবতে গা শিউরে ওঠে আমাদের। অথচ অহরহ ঘটছে চারপাশে।

কিন্তু এ দায় কার? হত্যাকারীরা ‘ডোন্ট কেয়ার ভাব করে’ এমনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে যেন বাচ্চাটি একা একাই পৃথিবীতে এসেছে। একটি নবজাতকের কান্না শোনার জন্য কত নিঃসন্তান দম্পতি হা হুতাশ করছে দিন রাত চব্বিশ ঘন্টা। এমন অনেককেই দেখেছি একটা সন্তানের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে। অথচ ময়লার স্তূপে পড়ে থাকা ঐ নবজাতকগুলোর কান্না কেবল ক্ষুধার্ত কুকুরগুলো শুনছে।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে হত্যা করলে যে তদন্ত হয়, বিচার হয়, একটা নবজাতককে হত্যা করলে তার ছিটেফোঁটাও হয় না কেন? একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হত্যা যে অপরাধ,একটা নবজাতক-একটা ভ্রূণ হত্যাও সমান অপরাধ । ও তো পূর্ণাঙ্গ মানুষ। অন্য সবার মতো ওরও অধিকার আছে এই পৃথিবীর আলো বাতাস ভোগ করার। ওর অপরাধ কি? একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ অপরাধী হতে পারে। কিন্তু ও তো নিষ্পাপ। ওকে কেনো পৃথিবীতে এনেই হত্যা করা হলো?

এ বিষয়ে যেন কারো কোনো মাথাব্যথা নেই,পদক্ষেপ নেই, চিন্তা নেই। বিশাল শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হচ্ছে, উন্মুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সুযোগ সুবিধা। পাশাপাশি উন্মুক্ত হচ্ছে প্রকাশ্য-গোপন জিনা ব্যাভিচারের দ্বার। দিনের পর দিন চলছে নবজাতক হত্যার প্রতিযোগিতা । তবে কি ৯১.০৪ শতাংশ মুসলিম দেশের পিতা-মাতারা ঘরে ঘরে হত্যাকারী লালন করছে?