অনেকেই বলে, আপনি এই কাজ করেন, সেই কাজ করেন; তাহলে আপনিও তো একজন নারীবাদী। আসলেই কি তাই?

একজন বিবাহিত পুরুষ যেমন তার স্ত্রীর পরিচয়ে পরিচিত হয় না, একজন বিবাহিত নারী হিসেবে আমিও স্বামীর পরিচয়ে পরিচিত হতে পছন্দ করি না। আমার বলতে ভালো লাগে না, আমি ‘মিসেস অমুক’; যেভাবে পশ্চিমা কালচারে বলা হয়। বরং আমি খুব আনন্দ বোধ করি, যখন আমি নিজেকে বিনতে ফুলান কিংবা উম্মু ফুলান নামে পরিচয় দেই, ঠিক যেমনভাবে ইসলামী রীতিতে প্রচলিত। তার মানে এই নয় যে, আমি সংসারের কর্তা হিসেবে স্বামীকে অস্বীকার করছি বা নিজেকে সবদিক থেকে তার সমান মনে করছি।

হ্যা, আমার মাঝে এক প্রতিবাদী সত্ত্বা আছে। আমি প্রতিবাদ জানাই, যখন দেখি: কোন স্বামী তার স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করছে; যদিও সেই স্ত্রী লোকটি সংসারের জন্য দিনরাত খেঁটে যাচ্ছে।

যখন তাকে বলা হচ্ছে, সংসারে তার কোন অবদান নেই।

বলা হচ্ছে, সংসারের আয়-উপার্জনে হাত লাগাতে!

তখন আমার সেই নারীর পক্ষ হয়ে পুরুষটিকে বলতে ইচ্ছা করে—“আয়-উপার্জন তো আপনারই দায়িত্ব। কেন বেচারীকে ঠেলে দিচ্ছেন অনিশ্চয়তার দিকে? কেন তার উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন এমন বোঝা যা আল্লাহ তাকে দেননি? আপনিই কষ্ট করে উপার্জন করে তাকে খাওয়াবেন—এটা তার অধিকার।”

আর তখনও আমি চুপ থাকতে পারি না, যখন কোন নারীর উপার্জন আছে বলে; স্বামী নিজেকে স্ত্রীর আর্থিক দায়িত্ব থেকে মুক্ত ভেবে বসে। সংসারে ব্যয় করতে অনিহা প্রকাশ করে; কিংবা স্ত্রীকে চাপ দিয়ে তার উপার্জিত অর্থ নিয়ে নেয়। এরপর নিজের মতো তা ব্যবহার করে এবং তার কোন হিসাব রাখে না। এমনকি স্ত্রীর কাছ থেকে নেয়া অর্থ ফেরত দেয়ার কথাটি চিন্তায়ও আনে না। আমি তখন সেই নারীর সম্পদ সংরক্ষণের অধিকারের কথা বলতে চাই, যে আর্থিক অধিকার আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়েছেন সেই অধিকারের কথা। এর মানে আমি বলি না, স্বামীর নিষেধ অমান্য করে, ক্যারিয়ার গড়তে হবে, অনেক সম্পদের পাহাড় গড়তে হবে।

যখন কোন ভাই তার ওয়ারিশের সম্পদ বোনকে বুঝিয়ে দেয় না; তখন আমি সেই নারীর পক্ষে কথা বলি। তার ন্যায্য দাবি ফিরিয়ে দিতে বলি। তবে আমি এই প্রশ্ন করি না যে, “কেন ভাই ও বোনের মাঝে বাবার সম্পদের সমান বন্টন হবে না?” আমি বলি, “আল্লাহ বোনকে যা দিয়েছেন সেটুকু দাও। অন্যায়ভাবে নারীর সম্পদ ভক্ষণ করো না।”

আমি জ্ঞানার্জন করতে ভালোবাসি। দ্বীনের খেদমত করতে চাই। কিন্তু নারী হিসেবে আমার কাছে স্বামী ও সন্তানের হক আদায় করার গুরুত্ব এর চেয়ে বেশি। তাই আমি আমার ভালোলাগার কাজগুলো পাশে সরিয়ে রাখি। যখন ফরজ দায়িত্ব পালন করে সামান্য কিছু সময় পাই, ঠিক তখনই সেই কাজে হাত দেই। পাশাপাশি নারীর অধিকারের আদায়ের জন্য লিখালিখি করি, চাকুরী না করার স্বাধীনতা ও পরিপূর্ণ পর্দা করার স্বাধীনতার জন্য লিখালিখি করি। আমি আল্লাহর দেয়া নারী অধিকারের কথা বলি এবং সেই অধিকার সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করি।

আর নারীবাদ—সেটা তো পশিমা সভ্যতা থেকে ধার করে আনা বস্তাপচা মাল। পশ্চিমা নারীবাদ কি আদৌ সাধারণভাবে সকল নারীর অধিকারের কথা বলে? নাকি তা এখন পরিণত হয়েছে র‍্যাডিক্যাল ফ্যামিনিসমে; যা নারী-পুরুষের স্বাভাবিক পার্থক্যকে অস্বীকার করে, পরিবার কাঠামো, মাতৃত্ব, ও পুরুষের দায়িত্বের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, এবং সর্বোপরি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক নীতির বিরোধিতা করে। তাই ঐ ডিসফাংশনাল নারীবাদে বিশ্বাস করার কোন প্রশ্নই ওঠে না এবং এর সাথে আমার দূরতম কোন সম্পর্ক নেই আর হবেও না ইনশাআল্লাহ।