ইসলামের দোহাই দিয়ে মেয়েদের ঘরে রাখতে চাও কেন?

কারণ স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে বাইরের অনিরাপদ পরিবেশে মেয়েদের ছেড়ে দিতে চাইনা। নারীর ইজ্জত-আব্রু সস্তা হতে দিতে চাইনা। ঘরে ঘরে বাচ্চাদের অনিরাপদ অবহেলিত শৈশব চাইনা।

কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের অন্যায় অবিচারের কারণেই নারীরা বেশি বহির্মুখী হয়েছে এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই বলতে চাই - নারীদের ঢালাওভাবে বহির্মুখী হওয়াটা তাদের কষ্ট অসম্মান অবিচার শেষ হবার মূল সমাধান নয়। এতেই তাদের প্রকৃত ইজ্জতের জিন্দেগী আসবে এটা সব ক্ষেত্রে বাস্তবতা নয়।

বরং কথা হলো ছেলেরা আকাশ হতে টুপ করে মাটিতে পড়ে না। বা ছেলেদের পেটে জন্ম নিয়ে অত্যাচারী হয় না। মেয়েদের পেট হতে এসে তাদের কোলেই বড় হয়। একজন মায়ের দায়িত্ব কর্তব্য অনেক। কারণ জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মেয়েদের কাছেই লালিতপালিত হয়। ছেলেদের যথাযথ জ্ঞান-বুঝ, আদব-কায়দা শিখিয়ে বড় করা। নারীদের যথাযথ সম্মান ও স্ত্রী-পরিবারের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শিখানো এসব একজন মা ই সবচেয়ে ভালো পারবেন।

সুতরাং নারীর ঘরের দায়িত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রধান দায়িত্ব।

মা হিসেবে সন্তানদের উত্তম মানুষ করে গড়ে তোলাটাই তার প্রধান ক্যারিয়ার।

হ্যাঁ, আগেকার নারীরা বেশিরভাগ বাইরের ক্যারিয়ার না গড়ে ঘরের দায়িত্ব ই পালন করেছেন কিন্তু ছেলেদের যথাযথ ভাবে ধর্মীয় শিক্ষা, চারিত্রিক শিক্ষা বুঝ দিয়ে বড় করার চেষ্টা তাদের অনেকেই করেননি বা করার গুরুত্ব বুঝেননি। বরং উল্টো শাশুড়ি হয়ে ছেলেকে বউয়ের উপর অত্যাচার, বাজে ব্যবহার করতে উসকানিদাতা অথবা নিজেই অত্যাচারী ভূমিকায় দেখা যেত অসংখ্য নারীদের। নারীর উপর সমাজের মানুষের অত্যাচার অন্যায়ের পিছে একতরফা পুরুষই দায়ী নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রেই নারীরাই দায়ী বা সহযোগী এটাই বাস্তবতা।

সুতরাং এসব ক্ষেত্রে সমাজ ও মানুষের আচরণ ও বুঝের সাথে সম্পর্কিত সমস্যাগুলা সংশোধন ও পরিবর্তনের চেষ্টা ছাড়াই যদি সব সমস্যা কষ্টের সমাধান “চাকুরী বা ব্যবসার মাধ্যমে নারীর এম্পাওয়ারমেন্ট হওয়া”-কে বলা হয় তাহলে তা যথাযথ জ্ঞান বুঝের পরিচায়ক নয়।

পুরুষের দোষত্রুটির দোহাই দিয়ে বা স্বামী মারা গেলে বা ডিভোর্স দিলে ভবিষ্যতে কী হবে ইত্যাদি অজুহাতে ঢালাওভাবে নারীদের উপার্জনের বোঝা নিজেদের ঘাড়ে চাপিয়ে নেয়াটা প্রকৃতপক্ষে উত্তম সমাধান নয় মুসলিম নারীদের জন্য। হ্যাঁ, কিছু ক্ষেত্রে কিছু নারীর জন্য অবস্থা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এটা সাময়িক সমাধান বটে। কিন্তু সবার জন্য মোটেই এটা উচিত বা উত্তম সমাধান না।

ঢালাওভাবে সবার জন্য একই কাজ সমাধান নয়!

যেখানে উপার্জনের দায়িত্ব মূলত পুরুষেরই সেখানে কেন স্বামী বা বাবা, ভাই থাকা সত্ত্বেও উপার্জনের দায়ভার নিয়ে, বাড়তি দায়িত্ব চাপ ও পেরেশানি নিয়ে মেয়েদের ঘর বাহির দুইটাই সামলাতে হবে?

কেন কর্মস্থলে যৌন হয়রানির শিকার ও পুরুষের চোখের খোরাক হতে হবে?

কেন রাস্তাঘাটে অফিসে সবখানে পুরুষের কাছে নারীর সাহচর্য তাদের জন্য এত সহজলভ্য হয়ে যাবে?

কেন পরকিয়া হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, টাকার লোভে নারীদের ইজ্জতভ্রষ্ট করা এত সহজ হয়ে যাবে?

কেন স্রেফ টাকার জন্য বসের অধীনস্থতা মেনে নেয়া, তার ঝাড়ি খাওয়াকে অসম্মানের কিছু হিসেবে দেখা হবে না? কেন ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী সাওয়াব, এমনকি জান্নাত প্রাপ্তির উসিলা হতে পারে জেনেও স্বামীর অধীনস্থ ও অনুগত থাকা অসম্মানজনক এই মনোভাব মেয়েদের মাঝে ছড়িয়ে যাবে?

কেন উপার্জন নিজে না করে স্বামীর টাকায় চলা অসম্মানের, এমন ভ্রান্ত অনৈসলামিক চিন্তা-ভাবনা মেয়েদের মাথায় ঢুকানো হবে?

কেন শক্তি-সামর্থ্য সব থাকা সত্ত্বেও কন্যা বা বউ এর উপার্জনে খেতে অনেক বেটাদের লজ্জাবোধ করবেনা - উলটা অন্য কর্মজীবী নারীদের উদাহরণ দিয়ে বাড়তি উপার্জনের জন্য ঘরের মেয়েদের চাপ দিবে?

সবচেয়ে বড় কথা, এসব ব্যাপারে অমুসলিম কাফিরদের চিন্তাভাবনা, বুঝ-জ্ঞান আর মুসলিমদের চিন্তাভাবনা বুঝ-জ্ঞান একই হবে কেন?

সম্মান আদতেই কিসে বা কীভাবে পাওয়ার চেষ্টা করা যায়, তা কেন আমরা বুঝানোর চেষ্টা করবোনা?

আল্লাহ যাকে যে দায়িত্ব কর্তব্য দিয়েছেন তা জেনেশুনেই দিয়েছেন। প্রত্যেকের অবস্থা এবং সমাধান তিনি জানেন। সুতরাং সমস্যা যদি গোড়ায় হয়, তাহলে স্রেফ আগার চিন্তা করাটা যথাযথ সমাধান নয়। নারী বা পুরুষ উভয়েরই যথাসাধ্য নিজ নিজ দায়িত্ব-কর্তব্যের প্রতিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়ার চেষ্টা করা উচিত।

যে কোনো সমস্যায় সেটা হোক অভাব বা সম্মানহীনতা সবক্ষেত্রেই আমল করা, আল্লাহর প্রতি ভরসা, আশা নিয়ে দুয়ার গুরুত্ব অনেক। তারপর অবস্থা অনুযায়ী উপার্জনের চেষ্টাও করা যেতে পারে ক্ষেত্রবিশেষে কিন্তু এটা মনে রাখা জরুরী যে, মুসলিম হিসেবে আমাদের কাজ ইসলাম অনুযায়ীই সমস্যার সমাধান খোঁজা। ইসলামের যথাযথ বুঝজ্ঞানহীন দুনিয়াবি মানুষদের বুঝজ্ঞান অনুযায়ী নয়।