পর্তুগালে নিকাব নিষিদ্ধের নিউজটা ছড়িয়ে পরার পর বাংলাদেশে অনেক প্রতিবাদ দেখা গেল। অথচ, নিকাব বিদ্বেষের দিক দিয়ে আমাদের বাংলাদেশ-ই বা কম কোথায়? কিন্তু এটা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোন মাথাব্যথা নেই।
বাংলাদেশে পশ্চিমা বিশ্বের মতো আইন করে নিকাব নিষিদ্ধ না করা হলেও দেশের পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হিজাব আর নিকাব বিদ্বেষ।
একসময় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই নিকাব নিয়ে হেনস্তার খবর পাওয়া যেত, কিন্তু এখন তা বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে স্কুল, কলেজ অবধি এসে পৌঁছেছে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা যেকোন পাবলিক পরীক্ষাতেই মুখ থেকে নিকাব না সরানো পর্যন্ত মেয়েদেরকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হচ্ছে না। নিকাবের জন্য মেয়েদের পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়ার ঘটনাও কম নয়। অথচ এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে শ্লীলতার ব্যাপারে কোন সীমা নির্দিষ্ট করে দিতে দেখা যায় না। শুধু হিজাব আর নিকাব নিয়েই তাদের যত নিয়ম-কানুন।
এক বোন আমাদের বাড়ি থেকে সরকারি চাকরির একটা পরীক্ষা দিতে এসেছিল। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় দেখলাম যে, সে মাস্ক পরেছে। জিজ্ঞেস করলে উত্তর দিল, “মাস্ক পরলে কিছু বলে না কিন্তু নিকাব পরলে নিকাব খুলতে বলে এইজন্য, মাস্ক পরছি।” অর্থাৎ, সমস্যাটা মুখ ঢাকা নিয়ে নয়, সমস্যাটা হলো নিকাব নিয়ে, সমস্যাটা হচ্ছে মুসলিমদের পর্দার বিষয়টা নিয়ে।
শুধু পরীক্ষার সময় না, বাংলাদেশে এখন সর্বত্র নিকাব বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে। একজন মডার্ণ পোশাক পরিধান করা নারীর সাথে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দেশের সুশীল সমাজে আর মিডিয়া পাড়ায় যেমন প্রতিবাদ দেখা যায়, কোন বোরখা পরা তেরো বছরের শিশু ধর্ষ*ণ হলে তার এক শতাংশও দেখা যায় না।
একজন হিজাব নিকাব পরা নারীকে পরীক্ষার রুম থেকে শুরু করে যেকোন প্রতিষ্ঠান বা যেকোন স্থানে হেনস্তা করা যেন আজ শুধু একটা মস্করা। যেন বাংলাদেশ আজ ফ্রান্স কিংবা পর্তুগাল কিংবা কোন এক পশ্চিমা দেশ। এখানে, আজ চাইলেই ইসলামের ফরজ বিধান পর্দাকে নিয়ে মস্করা করা যায়, চাইলেই পর্দার জন্য যেকোন নারীকে হেনস্তা করা যায়।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তো আজ শুধু সংবিধানে লেখা একটা লাইন।
আর যদি তা না হয়, তাহলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে কেন মেয়েদেরকে পর্দার জন্য হেনস্তা হতে হবে, কোন জবাব আছে কি? শুধু সমবেদনা, নিস্তব্ধতা আর পরিস্থিতির মানিয়ে চলার উপদেশ ছাড়া কোন জবাব নেই। কোন প্রতিবাদও নেই!