নারী বিষয়ক দুটি ঘটনা সম্প্রতি ঘটে গেলো। একটিতে একজন নারী ক্রিকেটার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন সময় উর্ধতন ব্যক্তিবর্গের দ্বারা এবইউজড হয়েছেন—নানা ভাবে যখন তখন গায়ে হাত দেয়া থেকে শুরু করে অশ্রাব্য ভাষায় কথা শুনানো, এমনকি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কুপ্রস্তাব। যা একজন নারীর ক্যারিয়ারের পথে মারাত্মক বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে যদি না সে তাতে সম্মত হয়।
দ্বিতীয়ত, ডা. সাকিয়া হকের স্বামীর পরকীয়া প্রেমের ঘটনা, যেখানে তাঁরই বিছানায় দিনের পর দিন নষ্টামি চলেছে অথচ, ক্যারিয়ার ও ট্রাভেলিং নিয়ে ব্যস্ত ডা. সাকিয়া ঘুণাক্ষরে কিছু টের পায়নি।
দুজন নারীই প্রকাশ্যে কেঁদেছে। তাদের উপর নিশ্চিতভাবে জুলুম হয়েছে। আমি আজ বলতে যাবো না, নারী হয়ে কেন একজন ক্রিকেট খেলতে গেল কিংবা মুসলিম হয়ে কেন আরেকজন হিন্দু পুরুষকে বিয়ে করতে গেল। আমি একজন নারী হিসেবে তাদের দুজনের ব্যাপারেই সমব্যথী। তাদের কান্না আমার অন্তরকেও কাঁদিয়েছে। কিন্তু যেই বিষয়টা আমাকে সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে তা হলো নারীসমাজের পারসেপসন।
আমি দেখলাম, ড. সাকিয়া হকের ঘটনায় নারী সমাজ যতটা ভোকাল, নারী ক্রিকেটারের বেলায় তার কিছুমাত্রাও ছিল না। স্বামীর পরকীয়া ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্তা এই দুটিই তো নারী সমাজের খুব কমন দুটি সমস্যা। অথচ আমাদের নারীসমাজ বেছে নিলো স্বামীর পরকীয়া ঘটনাটিকে, আর ঝেড়ে ফেলে দিল অন্য ঘটনাটিকে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কেন তারা নারী ক্রিকেটারের ইস্যুতে এত নীরব? এখানে কি প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাওয়া যায় না যে, তারা ভাবে—“ঘরের বাইরে কাজ করতে গেলে টুকটাক এধরণের সমস্যা হতেই পারে। এসব ম্যানেজ করেই ক্যারিয়ার গড়তে হয়। এটা নিয়ে এত আবেগ আপ্লুত হওয়ার কি আছে!”
তাদের দৃষ্টিতে, আবেগ আপ্লুত হতে হবে, সেই নারীর জন্য যে মুসলিম হয়েও এক কাফিরকে বিয়ে করল, যাকে বন্ধু বানাতে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বেস্ট ফ্রেন্ড বানালো। হোক তাদের সম্পর্ক আল্লাহর শরীয়তে অবৈধ।
আমাদের সমাজে প্রতিনিয়তই একেকটা ঘটনা ঘটে। ঘটনাগুলোকে অনেকভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। কিন্তু যার অন্তরে যেটা গেঁথে থাকে সে সেভাবেই তা ব্যাখ্যা করে। একই ঘটনা কাউকে হেদায়াতের পথে নিয়ে যেতে পারে আর কাউকে নিয়ে যেতে পারে গোমরাহির পথে। তাই যা-ই ঘটুক আবেগ কিংবা অভিজ্ঞতার নিরিখে নয়—বিশ্লেষণের মানদণ্ড হওয়া উচিত শারীয়াহ।