পুরুষদের মধ্যে একটা চিন্তাভাবনা দেখা যায় যে ঘরের নারীরা টাকা দিয়ে কী করবে? নারীর হাতে টাকার থাকার দরকার কী?
ইসলাম বাবার সম্পত্তিতে মেয়ের হক্ব দেয়। এই হক্ব, এই অর্থ একান্তই তার নিজের। সে কাউকে এই অর্থের হিসাব দিতে বাধ্য নয়। সে যেকোনোভাবে এই সম্পদ খরচ করতে পারে।
একইভাবে স্বামীর সম্পদেও তার হক্ব থাকে। তাছাড়া তার প্রাপ্ত দেনমোহরের উপরেও কারো কোনো মালিকানা কিংবা অধিকার নাই।
মায়ের আগে সন্তান মারা গেলে সন্তানের সম্পদেও মায়ের হক্ব থাকে।
নারীর যাবতীয় ভরণপোষণের দায়িত্ব বাবা, স্বামী কিংবা সন্তানের উপর ন্যাস্ত থাকলেও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা কোনো পরিশ্রম ছাড়াই নারীকে অর্থের মালিক হওয়ার সামগ্রিক সুযোগ করে দিয়েছেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা স্বয়ং যেখানে নারীর হাতে অর্থ থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সেখানে অনেক পুরুষ নারীর ফিন্যান্সিয়াল নীডকে পুরোপুরি ইগনোর করার চেষ্টা করেন।
ভাই হিসেবে বোনের হক্ব বুঝিয়ে দিতে চান না। স্বামী হিসেবে দেনমোহর আমৃত্যু বাকিই রেখে দেন। এমনকি স্বামী মারা গেলে নিজ সন্তানেরাও মায়ের অংশ বুঝিয়ে না দিয়েই মা বেঁচে থাকা অবস্থায় নিজেরা নিজেদের মধ্যে সম্পদ ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়ে নেয়।
বাবার সম্পদে হক্ব পেলে কিংবা দেনমোহর আদায় করা হলেও সেই টাকার তত্ত্বাবধান আবার স্বামীই করতে চান। স্ত্রী ইনকাম না করলে তাকে হাতখরচ দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করেন না। আবার এমন অনেক পুরুষকে চিনি যারা স্ত্রীর বেতনের টাকা নিজের মনে করেন কিংবা হিসাব চান। স্ত্রীর নিজের কষ্টে উপার্জিত টাকা বাবা- মায়ের জন্য ব্যয় করতে স্বামী কিংবা শ্বশুরবাড়ির অনুমতি লাগে!
নারীর নিজের সম্পদ নিজের পছন্দনীয় খাতে ব্যয় করার শতভাগ অধিকার আছে। তার টাকা দিয়ে সে স্বামী-সংসার-সন্তানের জন্য খরচ করতে পারে, সাদাকাহ করতে পারে, বাবা-মায়ের জন্য খরচ করতে পারে, যাকাত-কুরবানী দিতে পারে, হজ্জ- উমরাহ করতে পারে, নিজের পছন্দের খাওয়া-পরায় খরচ করতে পারে৷ কাউকে কোনোরূপ জবাবদিহি করা ছাড়াই।
অবশ্যই নারীদের প্রথম প্রায়োরিটি স্বামী, সংসার, এবং সন্তানসন্ততির পরিচর্যা। কেউ যদি এমন হয়, নিঃসন্তান, বা সন্তানরা বড় হয়ে গেছে ইত্যাদি, সেক্ষেত্রে ঘর ও বাচ্চাদের দায়িত্ব সামলানোর পর যদি বাইরের কাজ করে, উপযুক্ত ইসলামিক এটিকেট মেনে, পর্দার খেলাফ হয় এমন কোনো কিছু না করে, আমল-ইবাদতের ক্ষতি হবে এমন কোনো কিছু না করে, সংসারের দায়িত্বে গাফিলতি না করে কোনো নারী যদি ইনকাম করতে পারে তবে সেটাও অপছন্দ করার কিছু নেই।
সহজ কথায়, শরীয়াহ সীমানার মধ্যে থেকে নারীর অর্থ আয় করা, অর্থের মালিক হওয়া কিংবা অর্থ ব্যয় করার স্বাধীনতা থাকাটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন।
এবং এক্ষেত্রে যেহেতু কাউকে অধিকার দেওয়া হয়নি তাই অধিকার ফলাতে আসাটা সীমালঙ্ঘন।