খ্রিষ্টধর্ম মতে, ২৫শে ডিসেম্বরে যিশু বা ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন পালন করা হয়। তারা বিশ্বাস করে ঈসা (আ.) আল্লাহর পুত্র (নাউজুবিল্লাহ) এবং তিনি ত্রিত্ববাদ বা ট্রিনিটির অংশ। ট্রিনিটি হলো খ্রিস্টধর্মের একটি মূল বিশ্বাস। তারা বিশ্বাস করে যে, এক ঈশ্বরই তিনটি ভিন্ন রূপে বিদ্যমান। পিতা ঈশ্বর, পুত্র ঈশ্বর এবং পবিত্র আত্মা ঈশ্বর। এরা তিনজনই সমান, চিরন্তন এবং একই ঈশ্বরের অংশ, কিন্তু তিনটি পৃথক ব্যক্তিত্ব।
‘Merry Christmas’ শব্দের অর্থ হলো ‘খ্রিষ্টের মাস বা উৎসব আনন্দময় হোক’। যখন কেউ এটি বলে, তখন সে পরোক্ষভাবে সেই উৎসবের পেছনের কারণকেও অভিবাদন জানায়।
ইসলামের মূল ভিত্তি হলো তাওহীদ। কুরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ তা’আলার কোনো সন্তান নেই। এটি স্পষ্ট শির্ক। সূরা ইখলাসে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “বলুন, তিনি আল্লাহ, এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। “(১-৩ আয়াত)
সূরা মারইয়ামে আল্লাহ তা’আলা আরো বলেন, “আর তারা বলে, ‘পরম করুণাময় সন্তান গ্রহণ করেছেন।’ [যেভাবে ইহুদিরা বলে যে উযাইর আল্লাহর পুত্র, খ্রিষ্টানরা বলে যে আল্লাহ একজন পুত্র (ঈসা) জন্ম দিয়েছেন, পৌত্তলিক আরবরা বলতো ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা।] (এমন কথা বলে) অবশ্যই তোমরা এক গুরুতর মন্দ বিষয়ের অবতারণা করেছ। এতে আকাশসমূহ ফেটে পড়ার, পৃথিবী বিদীর্ণ হওয়ার এবং পাহাড়সমূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। কারণ তারা দয়াময়ের সন্তান আছে বলে দাবি করে। অথচ সন্তান গ্রহণ করা পরম করুণাময়ের জন্য শোভনীয় নয়।“(৮৮-৯২)
ইসলামি স্কলারদের মতে, যখন কেউ ক্রিসমাসের শুভেচ্ছা জানায়, তখন সে এমন একটি দিনের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছে যা আল্লাহ তা’আলার প্রতি এই ‘জঘন্য অপবাদ’ (সন্তান থাকা) দেওয়ার সাথে সম্পর্কিত।
রাসূলুল্লাহ (সা.) মুসলিমদের নিজস্ব স্বতন্ত্র বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। সুনানে আবু দাউদের একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে ব্যক্তি অন্য কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।” (৪০৩১)
মাদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ (সা.) দেখলেন সেখানকার মানুষ দুটি উৎসব পালন করছে। তিনি বললেন, “আল্লাহ তোমাদেরকে এর পরিবর্তে উত্তম দুটি দিন (ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আদ্বহা) দান করেছেন।” (সুনানে আবু দাউদ, ১১৩৪)
অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য ইসলামি স্কলার (যেমন: ইবনে তাইমিয়াহ, ইবনুল ক্বাইয়্যিম এবং বর্তমান সময়ের অনেক মুফতিগণ) মনে করেন, অমুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবে শুভেচ্ছা জানানো জায়েজ নয়।
ইবনুল ক্বাইয়্যিম (রহি.) তার ‘আহকামু আহলিজ জিম্মাহ’ কিতাবে লিখেছেন, “কুফরি কোনো আচারের জন্য অভিনন্দন জানানো বা শুভেচ্ছা দেওয়া অনেকটা মূর্তিকে সিজদা করার জন্য অভিনন্দন জানানোর মতো। এটি মদ পান করা বা অন্য কোনো বড় গুনাহের জন্য অভিনন্দন জানানোর চেয়েও গুরুতর।”
অনেকে যুক্তি দেন যে, এটি শুধুমাত্র সামাজিক সৌজন্য। ইসলাম অবশ্যই অমুসলিমদের সাথে ভালো ব্যবহার, ইনসাফ এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নির্দেশ দেয় (সূরা মুমতাহিনা, আয়াত ৮)। তবে ‘ভালো ব্যবহার’ এবং ‘ধর্মীয় বিশ্বাস’ সমর্থন করা এক বিষয় নয়।
একজন মুসলিম হিসেবে আমরা তাদের বিপদে সাহায্য করতে পারি, তাদের সাথে ব্যবসা করতে পারি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করতে পারি। কিন্তু তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস (যেমন: ঈসা আ.-কে আল্লাহর পুত্র ভাবা) যা সরাসরি কুরআনের বিরোধী, তাতে অংশ নেওয়া বা শুভেচ্ছা জানানো ইসলামের মৌলিক আক্বিদাহর পরিপন্থী।
‘মেরী ক্রিসমাস’ উইশ করা মানে হচ্ছে এমন একটি উৎসবকে স্বীকৃতি দেওয়া যা আল্লাহর একত্ববাদের বিরোধী একটি বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের শিক্ষা হলো “লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন” (তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন, আমার জন্য আমার দ্বীন)।
একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত তাদের প্রতি সর্বদা মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ থাকা, তাদের বিপদে সহযোগিতা করা। কিন্তু তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস বা উৎসবের অংশীদার না হওয়া, যা সরাসরি আমাদের তাওহীদি বিশ্বাসের পরিপন্থী।