একজন মানুষের মৃত্যু এত সুন্দর হতে পারে এটা আগে কখনো দেখিনি।

এক শুক্রবারে গুলিবিদ্ধ, আরেক শুক্রবারে মৃত্যু! মাঝে এই কয়টা দিনে কত শত মানুষের দোয়া, কত আলেমদের কুরআন তেলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, একজন মানুষের সুস্থতা কামনায়! এমন ভাগ্য কয়জনের হয়!

কত শত মা-বোনের কান্নাজড়িত ফরিয়াদ রবের দরবারে। আহ! কী সুন্দর আয়োজন, প্রিয় রবের সাক্ষাতের জন্য। ভীষণ সন্তুষ্টি নিয়ে রবের কাছে ফিরে যাওয়ার আয়োজন বুঝি এতই সুন্দর! আসহাবুল উখদুদ-এর সেই বালকের মৃত্যুর ঘটনা যেন চোখের সামনেই ঘটে গেল। প্রশান্ত আত্মা ফিরে গেল তার রবের দরবারে সন্তুষ্টি নিয়ে। সবুজ পাখি হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করল, বি ইযনিল্লাহ। এত সুন্দর মৃত্যু, একসাথে যেমন আনন্দের, তেমনি বুকের ভেতর উলটপালট করা ঝড়ও।

যে চলে গেল সে তো সফল, আর আমরা? আমরা কি মৃত্যুর মতো অবধারিত সত্যকে না মেনে থাকতে পারব? যদি না পারি, তাহলে আমরা কি সফল হব? আমাদের কি সফলতা লাগবে না? আল্লাহ, আমাদেরকেও আপনি সর্বোত্তম মৃত্যু নসিব করুন। আমিন।

তবে, সফলতা কি এমনি এমনি দুয়ারে চলে আসবে? কখনোই না। আর, একটি উত্তম মৃত্যুই হলো প্রকৃত সফলতা। যদি এটাই বাস্তবতা হয়, তাহলে যাদের সফল মৃত্যু হয়েছে, তাদের পথেই আমাদের হাঁটতে হবে-সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ।

শোকাহত অন্তর সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়, তা যত বড় ক্ষতই দিয়ে যাক না কেন। আর নিজ পরিবার না হলে সেই ক্ষত মানিয়ে নেওয়ার সময় আরও কম লাগে। তাহলে কি আমরা এভাবে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষগুলোর মৃত্যুর কষ্টকে সময়ের সাথে ভুলে যাওয়ার সান্ত্বনা দিয়ে মেনে নেব?

মানুষ মরে যায়, কিন্তু তার আদর্শ মরে না। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তা রয়ে যায়। আর যারা আদর্শের ধারা বজায় রাখতে আমৃত্যু লড়ে যায়, তারাই আদর্শের ফেরিওয়ালা।

কিন্তু কোন সে আদর্শ, যা মৃতকেও জীবিত করে দেয়? তার জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে শেকড়ে-রাসূল ﷺ-এর আদর্শে। তাঁর দেখানো পথে যারা হেঁটেছেন, তাদের জীবনের দিকে। এ আদর্শকে কখনো গলা টিপে শেষ করে দেওয়া যাবে না।

তবে সবাই তো আর আদর্শের ফেরিওয়ালা হওয়ার এই সৌভাগ্য অর্জন করে না। তাই প্রস্তুতি দরকার, দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই।

নারী হিসেবে আমাদেরই তো সেসব আদর্শের ফেরিওয়ালাদের গড়ে তুলতে হবে। অনেক কাজ, সময় কম, নিজেদের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

কুরআন ও সিরাহ থেকে জেনে নিতে হবে সেই আদর্শ, যা মানুষকে মৃত্যুতেও জীবিত করে দেয়। সাহাবিদের কাছ থেকে দুনিয়াকে দেখা শিখতে হবে। ইতিহাসের পাতা উল্টে নিতে হবে জ্ঞান। ভুল থেকে নিতে হবে শিক্ষা।

নারী হিসেবে সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা শহীদের তামান্না বুকে নিয়ে বড় হয়। ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তারা হবে দৃঢ়, মাথা উঁচু করে দন্ডায়মান। হিকমাহ, জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় তারা হবে অনুসরণীয়। তাদের থাকবে জীবন, মৃত্যু, আখিরাত ও কিয়ামতের সুস্পষ্ট ধারণা। ভোগ-বিলাসিতায় জীবন কাটানোর তাদের কোনো সময় থাকবে না। বালেগ-বালেগা হওয়া মাত্রই তারা হবে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।

এমন সন্তান যেসব মায়েরা গড়ে তুলবে, তারা শহীদ সন্তানের লাশ বুকে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকবে। প্রতিটি ঘরে কিয়ামত পর্যন্ত গড়ে উঠুক আদর্শের ফেরিওয়ালারা।