নারীর জীবনের চেয়েও কী, একটা ওড়না বেশি গুরুত্বপূর্ণ! ভূমিকম্পের সময় নারীদের ওড়না খোঁজা নিয়ে, সেক্যু পাড়ায় বেশ ব্যঙ্গাত্মকভাবে বাগবিতণ্ডা চলছে। মুসলিম নারীর জন্য ইটস নট জাস্ট আ পিস অফ ক্লথ। ইটস আ সিম্বল অফ হার তাক্বওয়া। বহু নারীর কাছে জীবনের চেয়েও তার হায়া রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মুসলিম নারীদের ওড়না খোঁজা, কোনো ব্যক্তির কটুকথা থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে নয়। বরং এটা তাঁদের প্রেফারেন্স, তাঁদের প্রায়োরিটি। এই সেক্যু পাড়ার নারীরা যেভাবে ইস্যুটাকে প্রেজেন্ট করছে, বাস্তবে সেই কারণে কেউ ‘ওড়না’ পড়েননি।
একজন মুসলিমাহ-র কাছে, তাঁদের ইজ্জত রক্ষা করা, রব্বের দেওয়া বিধানকে সমুন্নত রাখা দুনিয়ার সবকিছু থেকে বেশি প্রাধান্য পায়। তাঁদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই হন্তদন্ত হয়ে ওড়না খুঁজতে হয় না। কারণ, স্বামী ছাড়া বাকি মাহরামদের সামনে তারা রাফলি কভার্ড থাকে। কিন্তু তবুও অনেকে বাসায় পরিহিত শালীন পোশাক পরেও বের হতে চায় না।
“হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের জিলবাবের কিছু অংশ নিজেদের উপর ঝুলিয়ে দেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজতর হবে, ফলে তাঁদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৯)। সেসব মুমিন নারীরা কখনোই চাইবে না, আল্লাহর কোনো বিধান লঙ্ঘন করা অবস্থায় তাঁদের রব্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ হোক। এই অবস্থার মুখোমুখি না হওয়ার জন্য তাঁরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
“তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু কিন্তু তোমাদেরকে পাকড়াও করবেই” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৭৮)। মৃত্যু তো পাকড়াও করবেই। পর্দাহীন অবস্থায় দৌড়ে গিয়ে যে স্থানকে নিজের জন্য নিরাপদ ভাবছি, সেই জায়গাই যে আমার ডেথ স্পট হবে না, এর নিশ্চয়তা কতটুকু!
ধরুন, কেউ এমন পরিস্থিতিতে তার প্রিয় বিড়াল ছানাকে নিয়ে বাসা থেকে বের হতে পারছে না, তাই সে সুযোগ থাকতেও একা বের হয়নি। তার কাছে তার বিড়ালের প্রায়োরিটি অনেক বেশি। এই প্রাণী প্রেমী মানুষটির জন্য তখন, চারিপাশ থেকে প্রশংসার বন্যা বয়ে যাবে। কিন্ত কোনো মুসলিমাহর কাছে যখন তাঁর শরীয়া পর্দার প্রায়োরিটি তাঁর জীবনের চেয়েও বেশি হয়, তখন সেক্যু পাড়া এতো ক্ষেপে যায় কেনো!
বিশেষ এমন জরুরি অবস্থায় কেউ বের হতেই পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচানোর জন্য ওড়না ছাড়া বের হওয়া হারাম নয়। বিশেষ কোনো সিচুয়েশনে আজিমাত(ইসলামের বাধ্যতামূলক বিধান)-ও রুখসতে পরিনত হয়। ইসলাম তাকে এই অবস্থাতে বের হতে বাধা দেয় না। কিন্তু কেউ যদি ঈমানিয়াতের পরিচয় দেয়, সেটা নিয়ে মক করা, তাঁর তাওয়াক্কুলকে বোকামি বলা-সেটা তো চরম জাহিলিয়াত।
আপনার প্রাধান্য যেকোনো মূল্যে, জীবন বাঁচানো হতেই পারে। কিন্তু একজন মুসলিমাহর প্রেফারেন্স যদি তাঁর হায়া, আব্রুকে জীবনের বিনিময়ে হলেও রক্ষা করা হয়ে থাকে, তবে সেটা তাঁর নির্বুদ্ধিতা নয়। বরং মালিকি ইয়াওমিদ্দিনের সামনে নিজেকে আস-সাবিক্বুনের মাঝে দেখতে পাওয়ার তীব্র অভিপ্রায়!