ফিলিsতিনের যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে আমার কেবল হুদাইবিয়ার সন্ধির কথা মনে হচ্ছে, যদিও একটা হচ্ছে চুক্তি আর অন্যটি যুদ্ধ। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন হুদাইবিয়ার সন্ধি করেছিলেন, তখন সবার কাছে মনে হয়েছিল এটা খুবই অবমাননাকর ও মুসলিমদের পরাজয়। এমনকি উমর (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেছিলেন, “আপনি কি আল্লাহর রাসুল নন? আমরা কি হকপথে নই, আর তারা কি বাতিল পথে নয়?”
রাসুল (সা.) বললেন, “অবশ্যই আমি আল্লাহর রাসুল। আমি তাঁর আদেশ অমান্য করব না, তিনিই আমাকে সাহায্য করবেন।” (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)
উমরাহ করতে আসা সাহাবীরা কেউই উমরাহ না করে ফিরে যেতে চাচ্ছিলেন না, পশু জবাই করে, মাথামুন্ডন করতে চাচ্ছিলেন না। তখন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের মাথা মুন্ডন করেন এবং তাঁর দেখাদেখি সাহাবীরাও একই কাজ করে। (সহিহ বুখারি)
অন্যদিকে আমাদের বীর ফিলিsতিনি ভাইয়েরা আগ বাড়িয়ে হিসরাইলের মতো রাষ্ট্র, যাদের পিছনে আছে পৃথিবীর এক নাম্বার পরাশক্তি আমেরিকা, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয় — সুবহানআল্লাহ! এরপর কত ধ্বংসয/জ্ঞ, কত রক্ত, কত বিচ্ছেদ, কত ক্ষুধা, কত পিপাসা, কত অঙ্গহানি, কত শাহাদাত — সুবহানআল্লাহ! রাসুলের সত্যিকার অনুসারীরা ভেঙে পড়েনি, থেমে যায়নি, আত্মসমর্পণ করেনি। অথচ এসিরুমে শুয়ে বসে গাজার নিউজ দেখা আমাদের মতো বিশ্বের নামধারী মুসলিমরা বলেছে—“কী ভুলটাই না Haমাস করেছে! কেন ওরা আগ বাড়িয়ে আক্রমণ করতে গেল? ওরা নিজেরাই খাল কেটে কুমির এনেছে!”
ওদের প্রতি করা গণহত্যা দেখে একসময় আমার ভয় হতো—ওদের সবাই হয়তো একে একে জান্নাতের পাখি হয়ে যাবে, যেমনটি হয়েছিল সূরা আল-বুরুজে বর্ণিত আসহাবুল উখদূদের ঘটনায়। আর এই নিফাকের যুগে সবাই তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে! কিন্তু সেটাও পরাজয় নয়। স্বয়ং আল্লাহ তাদের কথা উল্লেখ করে বলেছেন—ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْكَبِيرُ — “এটাই মহাসাফল্য।”
আর ঠিক দুবছর পর, আল্লাহর ইচ্ছায় সত্যি যুদ্ধ বিরতি হয়েছে, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অথচ এর আগে কতবারই না যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হতে না হতেই তা ভেঙেছে বর্বর হিসরাইল। এখন হয়তো পৃথিবীর নামধারী মুসলিমরা বুঝতে পারছে—ফিলিস্তিন যুদ্ধে Haমাসই বিজয়ী। যুগ যুগ ধরে কারাগারে অত্যাচারে জর্জরিত নিরপরাধ মুসলিমরা ছাড়া পাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ শাহাদাতের মর্যাদা নিয়ে জান্নাতে চলে গেছে ইনশাআল্লাহ, মুমিনরা ঈমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, এবং আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা উন্নীত হয়েছে, মুনাফিকদের চেহারা উন্মোচিত হয়েছে, মানবতার ফেরিওয়ালাদের আসল চেহারা বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ পেয়ে গেছে, কফিররা মুসলিম নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ উপর যে নির্মমতা চালিয়েছে, তারা নিজেদের জাহান্নামের নিকৃষ্টতম শাস্তির উপযুক্ত করে নিয়েছে ইনশাআল্লাহ — এবং আরও অনেক কিছু।
ভয় হয়, আমরা যারা নিজেদের ঈমানদার বলে দাবি করি, ফিলিsতিনি মুসলিমদের ঈমানের কাছে আমাদের ঈমান তো কিছুই না। অথচ আল্লাহ্ তায়ালা বলেছেনঃ তারা কি মনে করেছে, “আমরা ঈমান এনেছি” বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? [সূরা: আল-আনকাবূত] রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—“তোমাদের পূর্ববর্তী একজন ব্যক্তির শরীর লোহার চিরুনি দিয়ে চিরে ফেলা হত, তার মাংস ও হাড় আলাদা করা হত, তবুও সে তার ধর্ম ত্যাগ করত না।” (সহিহ বুখারি)
বড্ড ভয় হয়, ঈমানের সাথে মরতে পারব কিনা। এই ঈমান আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে পারবে কিনা। ইয়া আল্লাহ আপনি আমাদের ঈমানের সাথে মৃত্যু দেন এবং আপনার সেই জান্নাতে একটু জায়গা দেন যার প্রশস্ততা আসমান ও পৃথিবীর সমান।