তারুণ্যের বয়সটা দারুণ। একটা মেয়ে এই বয়সেই সবচেয়ে লাবণ্যময়ী হয় দেখতে। চামড়ায় থাকে না কোনো ভাঁজ বা দাগ। অল্প বয়সের সব মেয়েকেই দেখতেই দারুণ লাগে। তার ওপর যদি সামান্য একটু মেকআপ করা হয়—একটু লিপস্টিক, চোখে আইলাইনার টানা হয়—দেখতে বোঝা যায় না সে সেজেছে, কিন্তু অপরূপ লাগে। এমন এক তরুণী যখন রাস্তায় হাঁটে, পাশের কেউ না কেউ বলে ওঠে—“মেয়েটা কত সুন্দর!” আর না বললেও, সব চোখ ঘুরে যায় তার দিকে। যেন এটাই তার নারীসত্তার পূর্ণতা।
প্রেমের প্রস্তাব আসে একের পর এক। সে কারও সঙ্গে জড়ায় না, আবার কাউকে হতাশও করে না। তার চারপাশে একটা রোমান্টিক আবহ সৃষ্টি করে রাখে।
অনেক তরুণীর মধ্যেই এই বিষয়গুলো কম-বেশি কাজ করে। কিন্তু আমি এমন এক তরুণীর কথা বলতে চাই, যে ছিল অনিন্দ্য সুন্দরী—যার পেছনে ছেলেরা ছায়ার মতো লেগে থাকত। যার হাতটা একটু ছুঁয়ে দেখার জন্য কত ছেলে যে হাত বাড়িয়ে দিত। সেই মেয়ে তার যৌবনকাল কাটিয়েছে ঠিক সেভাবেই, যেভাবে তার ইচ্ছা হয়েছে।
কিন্তু একটা সময় তার চামড়াগুলো কুচকে গেল, কপালে পড়ল বলিরেখা, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে এলো। একদিনের কথা—সে অনেকক্ষণ যাবৎ দাঁড়িয়ে ছিল এক ব্যস্ত রাস্তার ধারে। হাতে একটা স্টিক। প্রত্যেক পথচারীকে অনুরোধ করছিল—“হাতটা ধরে রাস্তা পার করে দিন।” কিন্তু কেউ ফিরে তাকায়নি তার দিকে। কেউ ধরেনি তার দুর্বল হাতটা। তরুণীদের আশেপাশে ভিড় জমানো পুরুষগুলো যে কেবল দুধের মাছি, সেটা তখন তার বুঝে নিতে সময় লাগেনি।
প্রায়ই দেখা যায়—শৈশবে যাদের রূপে আমরা মোহিত ছিলাম, সেই অতিসুন্দরী মডেল ও নায়িকাদের ছবি এখন টাইমলাইনে আসে—চুলে পাক ধরা, মুখে বার্ধক্যের ছাপ স্পষ্ট। কই গেল সেই রূপ-যৌবন? সেই মোহ?
একজন নারীর সৌন্দর্য আল্লাহর দান। আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামতের মাঝে এটিও একটি, এবং এটিও একটি পরীক্ষার মাধ্যম। যে মেয়েটা যত বেশি সুন্দরী, তার পরীক্ষা তত কঠিন—নিজের সৌন্দর্যকে ঢেকে রাখার পরীক্ষা, নিজেকে ও অন্যদের ফিতনা থেকে বাঁচিয়ে রাখার পরীক্ষা। মেয়েরা প্রশংসা শুনতে ভালোবাসে, কিন্তু যে প্রশংসনীয় হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য নিজেকে ঢেকে রাখে, সে উত্তম? নাকি যে নিজেকে দেখিয়ে বেড়ায়?
পর্দা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়—যে মন চাইলে করলাম, না চাইলে করলাম না। এটা সেই রবের আদেশ, যিনি আমাদের সুন্দর করে বানিয়েছেন, তিনিই তো নিষেধ করেছেন সৌন্দর্যকে দেখিয়ে না বেড়াতে।
অনেক বোন আছেন, যাদের পায়ের তলে সব সম্পদ ঢেলে দিলেও—even বন্দুকের নলের সামনেও দাঁড় করালেও—তারা নিজেকে অনাবৃত করবেন না। আর অনেকে আছেন, সামান্য অর্থের বিনিময়ে সব কিছু বিলিয়ে দেবেন, সামান্য বাহবার জন্য অর্ধনগ্ন হয়ে যাবেন।
বোনেরা, বিনিময় হিসেবে কি আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও জান্নাত উত্তম নয়?