আচ্ছা, প্রতিদিন আমরা ঘড়ির দিকে কেন তাকাই? সময় মত নাস্তা করলাম কিনা, সময়মত বাচ্চাকে ঘুম থেকে উঠালাম কিনা, বাচ্চাকে সময়মত পড়ালেখা করতে বসালাম কিনা, সময় মত রান্না শেষ করে বাচ্চাকে দুপুরের খাবার খাওয়ালাম কিনা, নিজে সময় মত খেলাম কিনা- এ সব কিছু টাইমলি করার জন্য আমরা প্রতিদিন অসংখ্যবার ঘড়ির দিকে তাকাই, তাই না?
৫ ওয়াক্ত সালাত আদায় সময় মত করছি কিনা, সেটার জন্য কি ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছি আমরা? রাতে জলদি ঘুমাতে যেতে হবে, নইলে ফজরের সালাম মিস হয়ে যেতে পারে, দুপুরের রান্না জলদি শেষ করে গোসল সেরে যোহরের সালাম আদায় করতে হবে। দুপুরে একটু ঘুমিয়ে বিকেলে আসরের সালাত আদায় করতে হবে।
আজ পার্টি আছে, তাই এশার সালাত আদায় করে এরপর না হয় পার্টির জন্য রেডি হবো- এগুলো আমরা মেইনটেইন করছি তো?
সালাতে আল্লাহর সাথে আমরা কথা বলি, সেজন্য আমাদের মনকে সময় মত সালায় আদায়ের জন্য তৈরি করছি তো?
যখন শপিং বা অন্য কোথাও বেড়াতে যাবার প্ল্যান করি, তখন সময়ময় সালাত আদায়ের কথাটা আমরা চিন্তা করি তো? শপিং করে বাসায় ফিরতে ফিরতে যোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেল।
ধরি, কারো মৃত্যু হল যোহরের পর। মারা গেলেই তো ইহকালের হিসাব গ্রহণ শুরু হয়ে যাবে। তখন তো আল্লাহ দেখবেন, শপিং কে প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে তার যোহরের সালাত আদায় করা হয় নি। তখন আল্লাহ কে কি উত্তর দিবে সে?
পার্টিতে যাবার জন্য পার্লার এ যেতে হবে। মাগরীব এর সালাত আদায় করেই পার্লারে চলে যেতে হবে। পার্টি থেকে ফিরতে রাত ১২ টা বেজে গেল। এশার সালাত মিস হয়ে গেল। কেমন হত, যদি এশার সালাত টা পার্টিতে যাবার আগেই আদায় করে নিতাম আমরা? কেমন হত, যদি সালাত আদায়ের জন্য পার্লারে সাজতে যাওয়া স্যাক্রিফাইস করতাম আমরা?
আল্লাহ তো ৫ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন। তাহলে কেন আমরা সালাত আদায় এর জন্য অন্যকিছুকে স্যাক্রিফাইস করতে পারছি না?
আল্লাহ আমাদেরকে ৫ ওয়াক্ত সালাত সময় মত আদায় করার তৌফিক দিন। আমীন।
নামাজ সম্পর্কিত কিছু আয়াত ও হাদিস দিলাম নিচে-
১. তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর নিঃসন্দেহে তা বড়ই কঠিন- বিনীতদের জন্যে ছাড়া । ( সূরা: বাকারাহ, আয়াত ৪৫)
২. বল, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর জন্যে। (সূরা: আনয়াম, আয়াত: ১৬২)
৩. তোমরা সালাত সমূহের প্রতি এবং ( বিশেষ করে ) মধ্যবর্তী সালাতের প্রতি যত্নবান হও, এবং আল্লাহর (সন্তুষ্টির) জন্যে একান্ত অনুগত অবস্থায় দাড়াও। (সূরা: বাকারাহ, আয়াত: ২৩৮)
৪. আমি যদি তাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করি (ক্ষমতা ও সম্পদ দ্বারা) তাহলে তারা সালাত কায়েম করবে, সৎ কাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করবে, আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহর (নিকট) (সূরা: হাজ, আয়াত: ৪১)
৫. আপনি আপনার প্রতি প্রত্যাদিষ্ট কিতাব পাঠ করুন এবং নামাজ কায়েম করুন। নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও গর্হিত কার্য থেকে বিরত রাখে। আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ জানেন তোমরা যা কর। (সূরা: আনকাবুত, আয়াত: ৪৫)
৬. দিনের দুই প্রান্তভাগে এবং রাত্রির কয়েকটি অংশে নামায আদায় কর। নিশ্চয়ই ভাল কাজসমূহ (পুণ্যসমূহ) খারাপ কাজসমূহকে (ছোট পাপসমূহকে) দূর করে দেয়। এটা উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য একটা উপদেশ।
৭. অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। (সূরা: নিসা, আয়াত: ১০৩)
হাদিসে এসেছে-
হজরত ইমরান বিন হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (সা:) ইরশাদ করেন, নামাজ দাঁড়িয়ে আদায় করবে, যদি অসমর্থ হও তখন বসে আদায় করবে আর যদি তাও না পার তখন শুয়ে আদায় করবে। (বুখারী)
রবের ইবাদতের জন্য সময় বের করলে তিনি আপনার:
১. সমস্ত দুশ্চিন্তা দূর করবেন।
২. অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করবেন।
৩. দারিদ্র্যতা দূর করবেন।
আর যদি রবের ইবাদতের জন্য সময় বের করতে না পারেন তাহলে তিনি আপনার —
১. দু’হাত ব্যস্ততা দিয়ে পূর্ণ করে দিবেন।
২. অন্তর দুশ্চিন্তা দিয়ে পূর্ণ করবেন।
৩. দারিদ্র্যতা কখনো দূর করবেন না।
(ইবনে মাজাহ : ৪১০২)