আমার প্রিয় কন্যা…

তোমাকে নিয়ে আমার স্বপ্ন শুধুই এই নয় যে তুমি সফল হবে এই দুনিয়ায় বরং আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া, তুমি যেন আল্লাহর প্রিয় বান্দীদের একজন হতে পারো। যেন তোমার চোখের পানিতে গলে পড়ে তোমার রবের রহমতের দরজা। যেন তোমার চলনে, বলনে, চিন্তায়, বোধে ফুটে ওঠে রাসুল (সা.) এর শিক্ষার সৌরভ।

এই সমাজ তোমাকে ‘আধুনিক’ হতে বলবে।

তোমার আত্মপরিচয় ভুলিয়ে দিয়ে এমন এক ধারণা চাপিয়ে দেবে, যেখানে নারীত্ব মানেই বিদ্রোহ। তারা বলবে, ধর্ম তোমাকে পেছনে ফেলে রাখে অথচ সত্য হলো, দ্বীনই তোমার মর্যাদার প্রকৃত পাহারাদার।

তোমার মধ্যে আমি দেখতে চাই খাদিজা রা এর প্রজ্ঞা, ফাতিমা রা এর লজ্জা, আয়েশা রা এর বুদ্ধিমত্তা এবং উম্মে সালামা রা এর সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের শক্তি।

তোমার শিক্ষা যেন এমন হয়, যা তোমাকে যোগ্য করে তোলে সময়ের সাথে লড়াই করার, কিন্তু যেন সেই শিক্ষা তোমার অন্তর থেকে হায়া (লজ্জা) কে মুছে না দেয়।

তুমি বিজ্ঞানের আলো জানবে, ইতিহাসের পাঠ পড়বে, সমাজবিজ্ঞানের জটিলতা বুঝবে।তবে তুমি সেইসব জানবে, যেন তুমি তোমার দীনের উপর টিকে থাকতে পারো যেন তুমি জানো কোন পথে তুমি যাবে আর কোনটি এড়িয়ে চলবে।

তুমি জানবে ফেমিনিজম কী, কিন্তু তুমি তা গ্রহণ করবে না ,বরং তুমি এর বিপক্ষে অবস্থান নিবে তোমার জ্ঞানের আলো দিয়ে।

তুমি জানবে তোমার ইসলাম নারীকে দিয়েছে যে সম্মান, তা কোন মানবসৃষ্ট তত্ত্ব কখনোই দিতে পারেনি, দিতেও পারবে না।

আমার কন্যা,

তুমি যদি একদিন উচ্চশিক্ষিত হও, সমাজে প্রতিষ্ঠিত হও, তাতে হয়ত সাময়িক গর্বিত আমি হয়েও যেতে পারি। তুমিও হয়ত হারিয়ে যেতে পার সেই প্রতিষ্ঠার নৌকায় পাল তুলে।

কিন্তু জান কি? দুনিয়া এবং আখিরাতে তোমার মা বেশি গর্বিত হবে যদি তুমি তুমি পর্দার আড়াল থেকে নিজেকে গড়,গড়ে তুল একটি উম্মাহকে, কোরআনের আলোতে স্নাত হয়ে। তখন তুমি হবে তোমার মায়ের জন্য সাদকায়ে জারিয়াহ। যা তোমার মায়ের মৃত্যুর পরেও কবরে নেকীর উসীলা হতে থাকবে। এবং তোমার শিক্ষা দিয়ে তুমি পরবর্তী প্রজন্মকেও তোমার জন্য সাদকায়ে জারিয়াহ করে তুলবে।

তুমি যখন মা হবে, তোমার কোলে যেন জন্ম নেয় এমন প্রজন্ম, যারা কেবল প্রযুক্তি নয়, তাকওয়ার শক্তিতেও হয়ে ওঠে শক্তিশালী।

তুমি নিজে হবে আলোর একটি প্রদীপ, যেটা নিভে যাবে না দুনিয়ার ধোঁয়াশায়। যেই প্রদীপের আলো জলতে থাকবে যুগ যুগ ধরে তোমার বংশ পরম্পরায়। তোমার উদরে জন্ম নিবে আবু বকর ,উমর, আলি,উসমান এবং খালিদের মত বলিষ্ঠ,প্রজ্ঞাবান সন্তানেরা।

তুমি হবে আয়েশা,ফাতিমাদের মত কন্যার গর্বিত মা!

আমার স্বপ্ন, তুমি হবে এমন একজন নারী

যার চাহনি লজ্জায় ঝুঁকে থাকে,যার কণ্ঠে থাকে প্রজ্ঞার ছায়া,যার কণ্ঠে উচ্চারিত হয় কোরআনের শব্দ,যার হাত ধরে আসে হেদায়াত।যার ঘর থেকে বের হয় যুগের শ্রেষ্ঠ সিংহ পুরুষেরা।

তুমি আধুনিক হবে, কিন্তু বিভ্রান্ত হবে না।

তুমি শিক্ষিত হবে, কিন্তু বিদ্রোহী হবে না।

তুমি স্বাধীন থাকবে, কিন্তু নিজের রবের গোলামী ভুলে যাবে না।

আমার দোআ, আল্লাহ যেন তোমাকে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন।

তুমি যেন এমন একজন মুমিনা হয়ে ওঠো, যার আমল দেখে ফেরেশতারা আকাশে গর্ব করে, আর জমিনে মানুষ অবাক হয়ে বলে এ তো সেই মেয়ে, যার দীনের শিক্ষা তার সাজসজ্জার চেয়েও উজ্জ্বল। যার হায়া তার গহনার চেয়েও দামী।

তুমি যেন কখনো নিজের আত্মমর্যাদা হারিয়ে না ফেল কারো প্রশংসার আশায়, কিংবা নিজের লজ্জাকে বিসর্জন না দাও কোন ক্ষণস্থায়ী সফলতার জন্য।তুমি যেন বুঝতে পারো আসল সৌন্দর্য মুখে নয়, চরিত্রে। আসল শক্তি উচ্চশিক্ষায় নয়, হৃদয়ের তাকওয়ায়। আর আসল সফলতা দুনিয়ার প্রতিষ্ঠায় নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিতে।

তোমার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় যেন হয় ইবাদতের অংশ,তোমার প্রতিটি সিদ্ধান্ত যেন হয় কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গৃহীত।

তোমার জীবনের প্রতিটি সম্পর্ক যেন আল্লাহর জন্য হয় এবং আল্লাহর জন্যই ত্যাগ করতে পারো যা তাঁর অসন্তুষ্টির কারণ।

তোমাকে আমি সাজিয়ে দিতে চাই না কোনো রঙিন মোড়কে বরং চাই, তুমি নিজেই হয়ে ওঠো সেই ফুল,যে নিজের সৌরভ দিয়ে নীরবে নিভৃতে ঝরিয়ে দিতে পারে এক বিষাক্ত সমাজের গন্ধ।

একজন মা হিসেবে তোমার প্রতি এই আমার চাওয়া।

হে আল্লাহ!

আমার সন্তান সন্ততি যেন শুধুই আমার আনন্দের উৎস না হয়,

বরং হয় এই উম্মাহর আশার আলো।

আর আমি, একজন মা হিসেবে, যেন কিয়ামতের ময়দানে গর্ব করে বলতে পারি

“হে আল্লাহ! আমি আমার মেয়েকে তোমার রাস্তায় উৎসর্গ করেছি।”

ইতি

একজন দুয়াকারী মা,

যার হৃদয় বয়ে চলে আল্লাহর সন্তুষ্টির তীব্র আকাঙ্ক্ষা।