টাকা -পয়সা, ধন - দৌলত কে না ভালোবাসে? পৃথিবীতে স্বাচ্ছন্দে জীবনযাপন করা অর্থই, প্রচুর টাকা -পয়সার মালিক হওয়া। সুখী হওয়া বা সফল হওয়া বলতে সাধারণ অর্থে মানুষ ধনী বা বড়লোক হওয়াকেই বুঝায়। যার ধন-সম্পদ প্রচুর , তার সামাজিক মর্যাদাও ঈর্ষণীয় পর্যায়ের। অপরপক্ষে, যার টাকা পয়সা নেই , তার সামাজিক অবস্থানও নিচের দিকে থাকে। আর সুখ ? সেটাতো জানালা দিয়ে পালায় !
এতক্ষণ সংজ্ঞা দিলাম সাধারণ অর্থে ধনী হওয়া বা সফল হওয়া বলতে কী বোঝায় তা। কিন্তু ইসলামে প্রকৃত ধনী বা প্রকৃত সফল তাদেরকেই বোঝানো হয়েছে যারা অন্তরের ধনী। অন্তরটা যার কোন কিছুর মোহে মোহাচ্ছন্ন নয়। সেটা লোভ, হিংসা , বিদ্বেষ হোক বা কারো কাছ থেকে মান-সম্মান বা গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ইচ্ছাই হোক। যে অন্তরটা শুধুই আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত , শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভেই পরিতুষ্ট - সেই অন্তরটাই হলো প্রকৃত ধনী। অপর দিকে , যারা দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবন ও জীবনোপকরণের মোহে তাদের শ্রম , সময় , চিন্তা - সকল কিছুকে বিলিয়ে দেয়- তারা একটা অদ্ভুত অস্থিরতার মধ্যে দিনাতিপাত করে। তুচ্ছ ব্যর্থতা তাদের প্রচন্ডরকম কষ্ট দিতে পারে ; আবার একটুখানি সাফল্য বা প্রশংসা , তাদের করে দিতে পারে অহংকারী।
দুনিয়াটা সকল অস্থায়ী জিনিসে ঠাসা। কিন্তু , যেহেতু চোখে আমাদের মোহের চশমা , তাই স্থায়িত্বের ব্যাপারটা চোখের অন্তরালেই থেকে যায়। অস্থায়ী দুনিয়ার সাফল্য আমাদের এতটাই আচ্ছন্ন করে রাখে যে আমরা আমাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য কেও ভুলে যাই। আল্লাহ বলেন, ” আমি জ্বীন ও মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদাতের জন্য। ” [ সূরা জারিয়াত : ৫৬ ]
অতএব , আমাদের জীবনটাই হওয়া উচিত শুধুমাত্র আল্লাহর ইবাদাতের জন্য। আমাদের প্রতিটা কাজ , প্রতিটা কথা যদি আল্লাহর ইবাদাতের উদ্দেশ্যে হয় বা তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, তাহলে আমরা যেমন দুনিয়ার দাসত্ব থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবো, তেমনি প্রকৃত ধনী - তথা অন্তরের ধনী হবার সুযোগ পাবো। যে অন্তরের সঙ্কল্প বা নিয়ত হবে বিশুদ্ধ। যাতে থাকবেনা লোক দেখানোর প্রবণতা , হিংসা, বিদ্বেষ , প্রশংসা প্রাপ্তির ইচ্ছা। থাকবে কেবলই আল্লাহের সন্তুষ্টির আশা , নিয়ত শুদ্ধ রাখার চেষ্টা ও দুনিয়ার মোহে মোহাচ্ছন্ন হবার ভয়।
এই ভোগবাদী দুনিয়ায় তাই আখিরাত মুখী থাকতে অল্পে তুষ্ট থাকার পন্থাই বেছে নিতে হবে। রাসূলুল্লাহ (সা) এর বিভিন্ন হাদিস থেকেও আমরা অল্পে তুষ্ট থাকার শিক্ষা পাই। ইবনু আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , ” মুসা (আ ) বললেন ,’ হে রব ! তোমার বান্দাদের মধ্যে তোমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় কে?’ আল্লাহ বলেন , ’ তাদের মধ্যে যে আমাকে বেশি স্মরণ করে। ’ মুসা (আ) জিজ্ঞাসা করলেন ,’ রব ! তাহলে তোমার বান্দাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী কে ?’আল্লাহ বলেন , ‘আমি যতটুকু দিয়েছি , সেটুকুতে যে সন্তুষ্ট থাকে।‘
আল্লাহের দিকে আমাদের প্রত্যেকটা কাজের উদ্দেশ্য ঘুরে গেলে , আমাদের পার্থিব অনেক দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত , ’ আল্লাহর রসূল (সা) বলেন , ” কেউ যদি কাউকে দেখে যে, ধন-সম্পদ বা রূপে গুনে কারো থেকে উত্তম , তবে সে যেন তার থেকে নিচের মানুষ গুলোর দিকে নজর দেয়। ” আরেকটা বর্ণনায় আল্লাহের রাসূল (সা) বলেন , ” তোমাদের থেকে উপরে (ধন -সম্পদ / মর্যাদায় ) কাউকে দেখো না( নজর দিও না ) , নাহলে আল্লাহের নিয়ামতের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়বে।” ( সহীহ বুখারী : ৬১২৫, সহীহ মুসলিম : ২৯৬৩) নিজের অবস্থান নিয়ে যাতে মনে কোনো অশান্তি দেখা না দেয় বা আল্লাহ্ যে পরস্থিতিতে রেখেছেন সেটা নিয়ে যাতে অসন্তুষ্টি না থাকে, এটা তারই নির্দেশ। আলহামদুলিল্লাহ।
আমরা আমাদের বাহ্যিক সাজসজ্জা নিয়ে যতটা চিন্তিত ; অন্তরের শুদ্ধি বা পরিশোধনে ততটাই নির্বিকার। এ কারণেই ইসলাম নিয়ত বা অন্তরের সঙ্কল্পের বিশুদ্ধতাকে এতটা গুরুত্ব দিয়েছে। অপর মানুষদের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা , অনেক সময় অনেক বড় হয়ে যায়। আর একারণেই দেখা যায় , অপরকে খুশি করতে আমরা আল্লাহের অসন্তুষ্টির ও অনেকগুলো কাজ করে ফেলি। অন্তরের দিক দিয়ে আসলে আমরা তখন অপর মানুষদের গ্রহণযোগ্যতা ভিক্ষা করি। কোন একজন মানুষ বা গোষ্ঠীর কাছে প্রশংসনীয় হবার আশা করি। কিন্তু যদি সেটা না করে একমাত্র আল্লাহের সন্তুষ্টির চেষ্টা করতাম, তাহলে তা হতো আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সুখের কারণ।
এই ধরণের গ্রহণযোগ্যতার আশাতেই যেমন দেখা যায় সুন্দরী প্রতিযোগিতা ( beauty pageant) আয়োজন করতে, নারীর প্রতি মানুষের অসুস্থ স্বীকৃতির আশায়। তেমনি , শীত কালে গরিবদের মাঝে কম্বল বিতরণের পর ছবি প্রকাশ করা হয় । উদ্দেশ্য এটা বোঝানো যে বিতরণকারী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কত মহৎ!
স্বামী ,সন্তান , সংসারের প্রতি দায়িত্ব পালন করার পর প্রশংসা বা স্বীকৃতি পাবার আশাও আমাদের ঐ দরিদ্র মনের চাওয়া। মূলত , যার নিকট দুনিয়া বড় হবে , সে প্রশংসাকে ভালোবাসবে এবং নিন্দাকে অপছন্দ করবে। ফলে এটা তাকে নিন্দার ভয়ে অনেক হক বর্জন করতে এবং প্রশংসার আশায় অনেক অন্যায় কাজে লিপ্ত হতে উদ্বুদ্ধ করবে। সুতরাং , যার নিকট তার প্রশংসাকারী ও নিন্দাকারী সমান হয়ে যাবে, তার অন্তর আল্লাহর ভালোবাসা ও যাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি আছে , তা দ্বারা পরিপূর্ণ হবে।
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন যে , আল্লাহ বলেছেন , ” হে আদম সন্তান ! আমার ইবাদাতের জন্য অবকাশ বের করো, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য্যে ভরে দিব, অভাব ঘুচিয়ে দিব। অন্যথায়, তোমার অন্তরকে না না ব্যস্ততায় ভরপুর করে রাখবো এবং তোমার দারিদ্রকে অবারিত করে দিব। “
অন্তরের ব্যস্ততা হল একধরণের অস্থিরতা। খেয়াল করলেই বুঝা যায় , যারা দুনিয়াবী , তাদের মধ্যে সবসময় একটা অস্থিরতা কাজ করে। প্রতিনিয়ত better option খোঁজার জন্য ব্যস্ত থাকে। সুন্দর বাড়ি হলে আরো সুন্দর বাড়ি ; একটা হলে দুইটা বাড়ির প্রয়োজন দেখা দেয়। আর সেই লক্ষ্য অর্জনে, প্রয়োজনে আল্লাহের অসন্তুষ্টির কোন পথ অবলম্বন করাও অপরাধের বলে মনে হয় না। যেমন - সুদভিত্তিক ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে বা ক্রেডিট কার্ডের যথেচ্ছ ব্যবহারে বেহিসাব খরচ করা। এসবই মানুষ করে তার অন্তরের অস্থিরতার কারণে। কোন কিছুই তার সেই অতৃপ্ত ও দরিদ্র হৃদয়কে পরিতুষ্ট করতে পারে না। উন্নত বিশ্বে তাই মানসিক অবসাদ দূর করতে লোকজনদের মাঝে shopaholic বা hoarding এর মত মানসিক সমস্যাগুলোর উৎপত্তি হতে দেখা যায় । শুধু উন্নত বিশ্বে বললে ভুল হবে ; যে কোন উপলক্ষে , বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত বা উন্নয়নশীল দেশে , শপিং মলের সামনের দৃশ্য দেখলে ভিড়মী খেতে হয় ! আজকাল মানুষ তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত কেনাকাটা করাকে লাইফ স্টাইলে পরিণত করেছে। এমনকি যার সামর্থ নেই , সেও এই ব্যাপারে অগ্রগামী ! ফেসবুকের কারণে লোকদেখানো সংস্কৃতির আরো বিকাশ ঘটেছে। মানুষ কোন জায়গায় স্বপরিবারে ঘুরতে গেলেও লোকদেখানো প্রবণতা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। উপভোগ করার বদলে , ফেসবুকে ছবি আপলোড করা, চেক ইন দেওয়া , খাবারের মেন্যু শেয়ার করা প্রভৃতি কাজ করতে উৎসাহিত করছে তার ভিখিরী মনটা ! কারণ, সে অজান্তেই , মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও প্রশংসা আশা করে চলছে।
জায়েদ ইব্ন সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন , ” পার্থিব চিন্তা যাকে মোহগ্রস্থ করবে , আল্লাহ তার কাজকর্মে অস্থিরতা সৃষ্টি করবেন , দরিদ্রতা তার নিত্য সঙ্গী হবে এবং পার্থিব স্বার্থ ততটুকুই লাভ করতে পারবে , যতটুকু তার তক্দীরে লিপিবদ্ধ আছে। আর যার উদ্দেশ্য হবে আখিরাত, আল্লাহ তার সবকিছু সুষ্ঠ করে দিবেন , তার অন্তরকে ঐশ্বর্যমন্ডিত করবেন এবং দুনিয়া স্বয়ং তার সামনে এসে হাজির হবে। (ইবনে মাজাহ ৯৫০: আলবানী কর্তৃক সহীহ)
অনেক সময় দেখা যায় প্রচুর সম্পদের মালিক - জাকাত আদায় করতে কার্পণ্য করলেও সন্তানের বিয়ের অনুষ্ঠানে অপচয়ের পর অপচয় করছেন ! এ সবের কারণও ঐ অন্তরের দারিদ্র। কারণ তার নফস , তার অন্তর কলুষিত হয়ে পড়েছে মানুষের কাছে প্রশংসা পাওয়া বা লোকদেখানোর লালসায়।
অন্তরের ভিখারীদের আরো দেখা যায় দেশের বাইরে বেড়াতে যায় , টাকা পয়সা খরচ করে বিলাসিতায়, কাপড়চোপড় , লাইফ স্টাইল রক্ষার্থে। কিন্তু হজ্জে যাওয়ার কোন চিন্তা নেই! আর হজ্জে গেলেও , সেখানে গিয়ে পুরানো অভ্যাস মত তুলনা চলে - কত টাকা খরচের প্যাকেজে কী কী সুবিধা পাচ্ছে! আল্লাহের সন্তুষ্টির চিন্তা , এমনকি নিজের হজ্জ্ব আল্লাহের কাছে কবুলের চিন্তার প্রয়োজনীয়তাটাও থাকে না।
আবু কাবশা আল- আনসারী (রা) হতে বর্ণিত আছে , তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছেন : আমি তিন বিষয়ে শপথ করছি এবং সেগুলোর ব্যাপারে তোমাদের বলছি। তোমরা এগুলো মনে রাখবে।
তিনি বলেন - দান খয়রাত করলে কোন বান্দার সম্পদ হ্রাস পায় না। কোন বান্দার উপর জুলম করা হলে এবং সে তাতে ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ তা ‘আলা অবশ্যই তার সম্মান বাড়িয়ে দেন। কোন বান্দা ভিক্ষার দরজা খুললে অবশ্যই আল্লাহ তা ’ আলাও তার অভাবের দরজা খুলে দেন অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন।
আমি তোমাদেরকে একটি কথা বলছি , তোমরা তা মুখস্থ রাখবে। তারপর তিনি বলেন : চার প্রকার মানুষের জন্য এই পৃথিবী। আল্লাহ তা ‘আলা যে বান্দাকে ধন-সম্পদ ও ইলম ( জ্ঞান ) দিয়েছেন , আর সে এই ক্ষেত্রে তার প্রভুকে ভয় করে , এর সাহায্যে আত্মীয়দের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার করে এবং এতে আল্লাহ তা ’ আলার হক আছে বলে সে জানে , সেই বান্দার মর্যাদা সর্বোচ্চ।
আরেক বান্দা যাকে আল্লাহ তা ‘আলা ইলম দিয়েছেন কিন্তু ধন - সম্পদ দেন নি , সে সৎ নিয়তের (সঙ্কল্পের ) অধিকারী। সে বলে , আমার ধন-সম্পদ থাকলে আমি অমুক অমুক ভালো কাজ করতাম। এই ধরণের লোকের মর্যাদা তার নিয়ত মোতাবেক নির্ধারিত হবে। এ দুইজনেরই সওয়াব সমান হবে।
আরেক বান্দা , আল্লাহ তা ’ আলা তাকে ধন- সম্পদ প্রদান করেছেন কিন্তু ইলম দান করেন নি। আর সে ইলমহীন (জ্ঞানহীন) হওয়ার কারণে তার সম্পদ স্বীয় প্রবৃত্তির চাহিদা মত ব্যয় করে। সে ব্যক্তি এ বিষয়ে তার রব কেও ভয় করে না এবং আত্মীয়দের সাথে সৌজন্যমূলক ব্যবহার ও করে না। আর এতে যে আল্লাহ তা ’ আলার হক রয়েছে তাও সে জানে না। এই লোক সর্বাধিক নিকৃষ্ট স্তরের লোক।
অপর এক বান্দা , যাকে আল্লাহ ধন- সম্পদ দান করেন নি , ইলম ও দান করেন নি। সে বলে , আমার যদি ধন-সম্পদ থাকত তাহলে আমি অমুক অমুক ব্যক্তির ন্যায় (প্রবৃত্তির বাসনা মতো) কাজ করতাম। তার নিয়ত মোতাবেক তার স্থান নির্ধারিত হবে। অতএব , এদের দুইজনের পাপ হবে সমান সমান। (হাসান সহীহ , ইবন মাজাহ ৪২২৮)
আমরা যদি আমাদের চারিদিকে একটু খেয়াল করি তাহলে দেখবো আল্লাহ তায়ালা কি অসংখ্য নিয়ামতের মাঝে আমাদের ডুবিয়ে রেখেছেন। আমরা আল্লাহর দেয়া এই নিয়ামত গুলোর জন্য কতটুকু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি? আমরা যে হাঁটতে পারছি , দেখতে পারছি, কথা বলতে পারছি , চিন্তা করতে পারছি ; এই সব কিছুই আল্লাহর নিয়ামত। অনেক লোক আছে যাদের চোখ আছে , দেখতেও পারে কিন্তু কোন রং দেখে না। সারা পৃথিবী তাদের কাছে সাদা কালো। এদের বলে কালার ব্লাইন্ড। আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি , চোখের সাহায্যে যে রঙ গুলো দেখতে পাই - সেটা আল্লাহের দেওয়া কত বড় নিয়ামত ? শুধু তাই নয় , অনেকে এমনও আছেন যারা নাক দিয়ে ঘ্রাণ নিতে পারেন না। তারা কোনদিন বৃষ্টির পর মাটির ভেজা গন্ধ, ফুলের সুবাস, মায়ের আঁচলের সুঘ্রাণ পান নি। আমাদের আল্লাহ্ কত কি দিয়েছেন ! আলহামদুলিল্লাহ।
রাসূলুল্লাহ ( সা) বলেছেন , ” কোন ব্যক্তি একটি নিরাপদ ঘরে, সুস্থ শরীরে , ঐদিনের খাবার মজুদ আছে এমতাবস্থায় ঘুম থেকে উঠলো; তাহলে যেন পৃথিবীর সব কিছু তাকে দেওয়া হলো। ” ( তিরমিযী, সহিহ বুখারী)
অতএব , শারীরিক, মানসিক সুস্থতা , নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং শুধু ঐদিনের খাবার থাকা ; এতটুক নিশ্চয়তা পেলেই আমাদের উচিত আল্লাহের শুকরানা আদায় করা।
আল্লাহের রাসূল (সা) বলেন , ” আদম সন্তান শুধু বলে ’ আমার সম্পদ! আমার সম্পদ!’ কিন্তু হে আদম সন্তান! তোমার শুধু ততটুকুই , যতটুকু তুমি খেয়ে নিঃশেষ করেছ আর পরিধান করে ক্ষয় করেছ অথবা যা তুমি দান করে আগে পাঠিয়েছ ( আখিরাতে পুরস্কার হিসেবে পাওয়ার জন্য) [সহীহ মুসলিম]
সুতরাং, আখিরাতের চিরস্থায়ী পুরস্কারের আশাতেই দুনিয়ার কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা উচিত। সাহল ইবন সাদ সাঈদী (রা) থেকে বর্ণিত , তিনি বলেন , এক ব্যক্তি নবী ( সা) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল , ’ হে আল্লাহর রাসূল ! আমাকে এমন একটি কাজের কথা বলে দিন যা আমি করলে আমাকে আল্লাহ্ ভালবাসবেন এবং লোকেরাও আমাকে ভালবাসবে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন , ” তুমি দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি অবলম্বন কর তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে ভালবাসবেন । মানুষের নিকট যা আছে , তুমি তার প্রতি অনাসক্ত হও , তাহলে তারাও তোমাকে ভালবাসবে। ( সুনান ইবনে মাজাহ :৪১০২) অর্থাৎ দুনিয়া বিমুখতাই আল্লাহ্ এবং বান্দার ভালোবাসা লাভের উপায়।
পরিশেষে বলা যায়, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আবাস, আখিরাত চিরস্থায়ী। দুনিয়ার সকল কিছুই ভঙ্গুর, নশ্বর। এই ক্ষণস্থায়ী আবাস স্থলে আমাদেরকে দেওয়া প্রতিটা নিয়ামত যেমন উপভোগের জন্য, তেমনি সবকিছুর হিসাবও গ্রহণ করা হবে। দুনিয়া থেকে যত কম নিবো, আখিরাতে আমাদের জন্য ততোধিক বা তার চেয়েও বেশি মজুদ থাকবে ইনশা আল্লাহ্। আর যেকোন কিছুর ভাল দিকটা দেখার চেষ্টা - আমাদের আল্লাহের প্রতি কৃতজ্ঞ হবার বা শোকর করার সামর্থ যোগাবে। আমাদের প্রতিটা কাজের নিয়ত তাই আল্লাহের সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত। আল্লাহ্ বলেন, ” তোমরা যদি শোকর আদায় কর তাহলে আমি তোমাদের বাড়িয়ে দিবো” ( সূরা ইব্রাহিম: ৭)
আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে কৃতজ্ঞ বান্দা/ বান্দি হবার, পরিশুদ্ধ নিয়তের অধিকারী হবার, ঐশ্বর্য মন্ডিত হৃদয়ের মালিক হবার তৌফিক দেন আমীন।