সত্যি বলতে, গাজীপুরের মাদ্রাসার ছাত্রী ধR ষণের ঘটনাটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করছে। বলা হচ্ছেঃ হি ন্দু ছেলেটির সাথে মেয়েটির প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং মেয়েটি স্বেচ্ছায় ছেলেটির সাথে ঘুরতে বেরিয়েছিল। যদি বিষয়টি সত্য হয়েও থাকে তবু মেয়েটার উপর যে নির্মম অত্যাচার হয়েছে, তা থেকে এটা স্পষ্ট যে, মেয়েটি একটি উgroবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্তের শিকার।

প্রশ্ন আসতে পারে, মাত্র ১৩ বছরের একটা মেয়ে — যে এখনো শৈশবের ছায়া থেকে পুরোপুরি বের হয়নি — কীভাবে এক হিন্দু ছেলের প্রেমে পড়ে? যেখানে সেই ছেলেটি আবার এক উgroবাদী দলের সদস্য, যে ধর্মীয় বিদ্বেষে মুসলিম মেয়েদের ফাঁদে ফেলার “মিশনে” নেমেছে?

হতে পারে মাসের পর মাস সে মেয়েটির পিছনে পিছনে ঘুরেছে, মিথ্যা ভালোবাসার নাটক করেছে, নিজেকে বিশ্বস্ত ও ভালো মানুষ প্রমাণ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। আর শেষমেশ মেয়েটি সরল মনে বিশ্বাস করে, ভালোবাসার ফাঁদে আটকে গিয়েছে।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে — “একটা মেয়ে এত সরলভাবে বিশ্বাস করে কীভাবে?” বলা হয়ে থাকে নারীরা ইমোশনাল বিং আর পুরুষরা রেশনাল বিং। এর মানে এই নয় যেঁ, পুরুষদের একেবারেই ইমোশন নেই, কিংবা নারীদের একেবারেই রিজনিং নেই। বরং কার মধ্যে কোন বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পায় সেটাই বলা হয়েছে। আমি আমার নিজে সহ আশপাশের যত নারীদের দেখি সবার ক্ষেত্রেই এই চরিত্র লক্ষণীয়। এজন্যই একজন নারী মায়ের ভূমিকা পালন করতে পারে। সন্তান জন্মদান, ফিডিং, প্রতিপালন প্রতিটা ধাপই এত কষ্টকর। একজন নারী যদি কেবল যুক্তিনির্ভর হতো, তাহলে একবার সন্তান জন্মের কষ্ট পাওয়ার পর আর কখনো মা হওয়ার কথা ভাবত না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা তার হৃদয়ে এমন এক মমতার আবেগ দিয়েছেন, যা তাকে আবারও সেই কষ্টের পথে ফেরায়—শুধু সন্তানের মায়ামাখা মুখটি দেখার জন্য। এত ইমোশনাল বলেই তারা আবার ভুল করে বেশি, ভুল মানুষকে পছন্দ করে। অনেক সময় তারা জেনেবুঝেই কাজটা করে, কারণ আবেগ তখন বিবেকের উপর প্রাধান্য পায়। ভুল পথে পা বাড়ায় আর ভাবেঃ আমি জেনেশুনে বিষ করছি পান!

বিশেষ করে বয়ঃসন্ধি ক্ষণ ও তার পরবর্তী সময়ে এই আবেগের মাত্রা থাকে সর্বোচ্চ। ইউনিসেফের গবেষণা (২০২২) অনুযায়ী, ১৩–১৭ বছর বয়সে মেয়েদের emotional impulsivity ছেলেদের তুলনায় প্রায় ৪০% বেশি। এই সময়েই তারা প্রেম, আদর, যত্ন—এসব আবেগের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। Pew Research (২০২২)-এর জরিপ বলছে, ৬৫% কিশোরী বলে—“সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ ভালো ব্যবহার করলে আমি সহজেই বিশ্বাস করি।” ঠিক এই সময়, বাবা-মা ও পরিবারের আপনজনের ভূমিকাটা খুব ক্রুসিয়াল। মেয়েটি প্রেমের আবেগে অন্ধ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু তার পরিবার তো হয় না। মেয়ে কোথায় যায়, কার সাথে মিশে এগুলো অবশ্যই বাবা-মাকে জানতে হবে। নতুবা মেয়ের একটু ভুলের জন্য পুরো পরিবারকে সারাজীবন তার মাশুল দিতে হবে।

এদিকে উgroবাদী হিন্দু একদল ছেলে এই মিশনে নেমেছে যে তারা মুসলিম নারীদের সতীত্ব ন ষ্ট করবে। এটাকেই তারা ধর্মিয় পবিত্র কাজ বলে বিশ্বাস করে। ভারতের উgro হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বহু বছর ধরে “লাভ ট্র্যাপ” কৌশল চালিয়ে আসছে। ২০২০ সালে The Quint ও BBC Hindi রিপোর্ট করে—বজরং দল ও হিন্দু যুবা বাহিনী নামের সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে “Muslim girls rescue mission” নামে প্রচারণা চালায়, যেখানে মুসলিম মেয়েদের প্রেমে ফেলে ধর্মান্তরিত করার প্ররোচনা দেওয়া হয়। ২০২১ সালে The Print জানায়, ৩০টিরও বেশি ফেসবুক গ্রুপ মুসলিম মেয়েদের টার্গেট করে “interfaith love challenge” নামে পোস্ট দিত। এই মিশন শুধুমাত্র ভারতেই নয় — দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিম সমাজে একটি ধর্মীয় নৈতিক ধ্বং //সযজ্ঞের পরিকল্পনা হিসেবেই বিস্তার লাভ করছে। বাংলাদেশের কেইসগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়ঃ এদের অধিকাংশ টার্গেট হচ্ছে কম বয়সী মেয়েরা। প্রথমে তারা প্রেমের ফাঁদে ফেলে, এমনকি কখনো কখনো নিজ ধর্ম পরিচয় গোপন রাখে, কখনো আবার ধর্মান্তরিত হওয়ার আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক গড়ে। এরপর ধRষোন করে, কেউ কেউ বিয়ে করে। তারপর সেই মেয়েটিকে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ফেলে রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।

বিষয়টিকে ইসলাম কীভাবে দেখে? বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক তো ইসলামে একেবারেই নিষিদ্ধ। আর কাফিRদের সাথে বিয়েও নিষিদ্ধ। কোন মুসলিম নারী কখনো অপবিত্র কাফিR-এর জীবনসঙ্গি হতে পারে না। এটা একেবারেই হারাম। আল্লাহ তায়ালা স্পষ্ট বলেছেনঃ “তোমরা মুশরিক পুরুষদের সাথে তোমাদের নারীদের বিবাহ দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।” (সূরা আল-বাকারা ২:২২১)

আজ অনেক মেয়ে পর্দা করে, কিন্তু জীবনের বাস্তব আচরণে ইসলামী নীতি অনুসরণ করে না। পর্দা শুধু কাপড় নয়, পর্দা মানে আত্মার সংযম। যদি ইসলামী চেতনা হৃদয়ে না থাকে, তাহলে শত্রু সহজেই আবেগে ফাঁদ পেতে পারে। অন্যদিকে, কিছু পরিবার হয়তো অর্থ বা সামাজিক সুবিধার আশায় মেয়ের বিপজ্জনক সম্পর্ককেও সহ্য করে নেয় — যা আসলে আবেগ নয়, লোভের দাসত্ব। মুসলিম বোনেরা, তোমাদের আবেগ তোমাদের দুর্বলতা নয়, এটা তোমাদের শক্তি—যদি তা ঈমান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তোমরা আল্লাহর ভালোবাসায় নিজেকে সাজাও, কোনো শিবসেনা বা প্রতারকের মিথ্যা ভালোবাসায় নয়। মুসলিম পরিবারগুলোকে আজই সজাগ হতে হবে—কারণ এক কিশোরীর পতন মানে পুরো সমাজের আঘাত। পর্দা মানে বন্দিত্ব নয়, বরং আত্মার স্বাধীনতা। আবেগ নয়, ঈমানই হোক আমাদের ভালোবাসার মাপকাঠি।