ধরুন, আপনার সামনে কোনো রিকশাচালককে কেউ বেধড়ক পে*টাচ্ছে। স্বাভাবিক মানবীয় প্রতিক্রিয়া স্বরূপ আপনার এঘটনা দেখে কষ্ট লাগবে। আধুনিক মনস্তত্ত্বের ভাষায় এটি আমাদের মস্তিষ্কের সুপ্ত “মিরর নিউরন” এর সক্রিয়তা।
“মিরর নিউরন” হলো সেই স্নায়ু, যা অন্যের কষ্ট দেখলে আমাদের মস্তিষ্কে একই কষ্টের প্রতিচ্ছবি তৈরি করে। এই স্নায়ুবিক টানই প্রমাণ করে “সহানুভূতি ও সংহতি মানুষের ফিতরাত”।
এই ফিতরতগত সহানুভূতি বা মানবিক টানই হলো সেই বীজ, যা থেকে আল্লাহ তায়’লার দেওয়া উম্মাহর প্রতি ভাতৃত্ববোধ নামক শক্তিশালী বৃক্ষটি জন্ম নেয়। এই বোধকে কেবল একটি আবেগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর মূল ভিত্তি হলো তাওহিদ। যখন বিশ্বাসীরা ঘোষণা করে যে, “আমাদের ইলাহ একজন, আমাদের কিতাব একটি, এবং আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্যও এক।” তখন ভৌগোলিক, জাতিগত বা ভাষাগত সকল পার্থক্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।
নুমান বিন বশির (রাদ্বি.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “মুমিনদের উদাহরণ তাদের পারস্পরিক সম্প্রীতি, দয়ার্দ্রতা, সহমর্মিতার দিক দিয়ে একটি মানবদেহের মতো। যখন তার একট অঙ্গ অসুস্থ হয়, তখন তার সমগ্র দেহ তাপ ও অনিদ্রা ডেকে আনে।” (সহিহ মুসলিম)
গা||যযার মুসলিমরা তো আমাদের দেহের একটা অংশ।তাদের উপর ঘটা নৃ”শংসতা দেখে তো মুমিন হিসেবে আমাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ হওয়ার কথা ছিলো। অথচ আমরা কতো অহেতুক বিষয় নিয়ে মত্ত। ইস্যুর তালে তালে কখনও হয়তো ফি@লি@স্তি@ন নিয়ে দুএকটা পোস্ট দেই মাত্র। তারপর আবার নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি।
গা||যযার শিশুদের নিষ্পাপ র*ক্তাক্ত চেহারাগুলো কেনো আমাদের ভেতরকার সেই সহজাত ‘ভাতৃত্ববোধ”কে জাগ্রত করে না? কেনো আমরা এসব দৃশ্যকে সযত্নে উপেক্ষা করি? কেনো আমাদের বিবেকের উপর ধূলোর আস্তর জমে গেছে? অন্তর থেকে কেনো অতি মানবীয় ভাতৃত্ববোধ প্রায় বিলুপ্ত? নিজেদের কি এসব প্রশ্নের কাঠগড়ায় কখনো দাড় করিয়েছি?!
একজন মুমিন তো আরেকজন মুমিনের জন্য ইমারত স্বরূপ। আমাদের কাজ তো, এক অংশ আরেক অংশকে শক্তিশালী করা। কিন্তু এসবের ব্যতিরেকে, আমরা আমাদের মজলুম ভাইদেরকে ভুলে গিয়েছি। নিজেদের ভাতৃত্ববোধকে মাটিচাপা দিয়ে, আবাবিলের অপেক্ষায় আছি!
নিশ্চয়ই আবাবিল আসবে। নিশ্চয়ই আল ক্বু||দস মুক্ত হবে।আল্লাহ তায়’লার ওয়াদা সত্য, নিশ্চয় তিনি প্রতিশ্রুতির ব্যতিক্রম করেন না। কিন্তু আমরা যদি আমাদের উম্মাহর প্রতি ভাতৃত্ববোধকে জাগ্রত না করি, তাহলে সেই আবাবিলের নিক্ষিপ্ত কংকরে ভক্ষিত ভূসিতে রূপান্তর হওয়া থেকে আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন। আল্লাহুম্মাগফিরলি!
কিয়ামত দিবসের কঠিন বাস্তবতার ক্ষণে, আল্লাহ তায়’লা সেইসব আলুথালুকেশী, ধূলিমলিন ও নিগৃহীত ব্যক্তিদের অভিযোগের কাঠগড়া থেকে আমাদের রক্ষা করুন। যারা যদি কোনো ব্যাপারে আল্লাহ তায়’লার নামে কসম করে বসে, তাহলে আল্লাহ তায়’লা তা পূরণ করে দেন।
আল্লাহ তায়’লা আমাদের মজলুমদের পক্ষ শক্তি বানিয়ে দিন। আমাদের পাঁজরে আঁটকে থাকুক একটাই বাক্য, “আমরা এক দেহ, এক উম্মাহ, এক শক্তিশালী ইমারতস্বরূপ!”