গত দুদিন ধরে নিঃশ্বাসও যেন ভার হয়ে এসেছে।আমাদের মা-বোনদের মনে নেই একটুও শান্তি। চোখ বন্ধ করলেও দেখা যায়—আগুনে ঝলসে যাওয়া নিষ্পাপ শিশুদের ক্ষত-বিক্ষত শরীর। চোখ খোলা রাখলেও তাড়া করে সেই বিভীষিকা।বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে বুক কাঁপে। খাওয়া-দাওয়া, ঘুম—সবকিছু থেমে গেছে যেন।

আর যেসব নিষ্পাপ ছোট ছোট শরীরগুলো হাসপাতালের বেডে যন্ত্রনায় কুঁকড়ে উঠছে ও যেসব বাবা-মায়ের কলিজার টুকরা পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে তাদের সেই ব্যথা বুঝে ওঠার ক্ষমতা আমাদের নেই।এই দৃশ্য কেঊ সহ্য করতে পারে না। মুমিনদের মুখ ফুটে বেরিয়ে আসে—“হে আল্লাহ! এত ভয়াবহ! এত নির্মম! এত কঠিন!”

কিন্তু কুরআনে আল্লাহ নিজেই তো বলে দিয়েছেন: “তোমাদের যে বিপদই আসে, তা তোমাদের কৃতকর্মের ফল।” (সূরা আশ-শূরা, আয়াত ৩০)

আমরা নিজেরা যা করেছি, আজ তারই ফল ভোগ করছে আমাদের সন্তানরা। তাদের ভালো রাখার নামে আমরা বানিয়েছি এক বিশাল পাপের প্রাসাদ। ঘুষে, সুদে, চাটুকারিতায়, দুর্নীতিতে গড়ে তুলেছি সন্তানদের জন্য “সুবিধা”।কিন্তু সে সুবিধার ভিতটা যে এক গভীর নৈতিক পতনের উপর দাঁড়িয়ে! এই জাতির সিস্টেমের প্রতিটি স্তম্ভে, প্রতিটি কোণায় জমে আছে পাপ। পৃথিবীর অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্থ দেশ আমাদের ৯০ ভাগ মুসলিমের এই দেশ বাংলাদেশ!

২০০৯ সালে নিউ ইয়র্কে ইউএস এয়ারওয়েজ ফ্লাইট ১৫৪৯-এর ঘটনা, বিমানটি নদীতে পড়ে গেলেও ১৫৫ জন যাত্রী সকলেই বেঁচে যান। কারণ প্রতিটি সিস্টেম, প্রতিটি কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে। উদ্ধারে ছুটে গিয়েছে স্পিডবোট, মুহূর্তেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।ভাবুন তো, আমাদের দেশে এমন কিছু হলে কী হতো? কতজন জীবন নিয়ে ফিরতে পারত?

এই জাতি একদিন মজলুম ছিল। বছরের পর বছর জুলুমে পিষ্ট হতে হতে তারা আজ নিজেরাই হয়ে উঠেছে জালিম। মনোবিজ্ঞান বলে, যারা ছোটবেলায় নির্যাতনের শিকার হয়, তাদের মধ্যেই ভবিষ্যতে নির্যাতনকারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বেশি। আমাদের জাতির আজ সেই অবস্থা।আমরা ন্যায়ের কথা বলি, কিন্তু অন্যায়ের ওপরই দাঁড়িয়ে থাকি। আমরা শিশুদের স্বপ্ন বুনে দিই, কিন্তু বাস্তবটা তৈরি করি আগুন আর ধ্বংসের।

আর রাষ্ট্র যেন তাসের ঘর—একটা ত্রুটি মানেই ধসে পড়া সব কিছু।

আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। আমাদের গাফেলতা, অন্যায়, পাপ—সবকিছুর শাস্তি যেন আমাদের সন্তানদের গায়ে এসে না পড়ে। আমাদের চোখ খুলে দিন—যেন আমরা এই ভঙ্গুর কাঠামো ভেঙে আদর্শ, সততা ও ঈমানের ওপর দাঁড় করাতে পারি নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।