আপনার ইসলাম টা কেবল ই যেনো শুধু আপনার ব্যাক্তিগত ”দু’আ কবুল” কেন্দ্রিক না হয়ে যায়;আপনি গুনাহ গুলো থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখছেন,প্রচুর ইস্তেগফার আমল করছেন,দু’আ কবুলের মুহূর্ত গুলোতে দু’আ করে যাচ্ছেন,তাহাজ্জুদ পড়ছেন -অবশ্যই এগুলো বেশ ভালো বিষয়। তবে, আপনার ইসলাম যেনো শুধু এটুকুতেই সীমাবদ্ধ না থাকে।
আপনি হন্যে হয়ে কেবল আপনার দু’আ কবুলের পেছনে ছুটছেন,ওদিকে দেশে ইসলামের অবমাননাকারী রা দুদিন পর পর মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে, নবী-রাসূল(সা:) এর শানে বেয়াদপি ও অশ্লীল কটুক্তি করছেন,দেশে ইসলামবিরোধী আইন সংবিধানে পাশ হয়ে যাচ্ছে-
কিন্তু আপনি সেগুলো জানেন ও না,কিছু খবর ও রাখেন না,আপনার কানেও পৌছায় না - আপনি আছে কেবল আপনার ব্যক্তিগত একটি ‘দুনিয়া’ জুড়ে,যেখানে কেবল আছে,রবের সাথে আপনার পাওয়া ও না পাওয়ার হিসাব -যদি হয় তা,তবে আপনাকে আপনার ইসলাম নিয়ে আরো ভাবতে হবে।
আপনার আপন বোন টা সূরা ফাতিহা টাও শুদ্ধ করে পড়তে পারে না,কিংবা প্রযুক্তির ট্রেন্ডে কোনো কুফরি মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে যাচ্ছে,ইসলাম এর প্রত্যাখানকৃত সমকামীতাকে জাস্টিফাইড ভাবছে
-তাহলে আপনার ‘ইসলাম’ নিয়ে আরো কাজ বাকি আছে।
মনে রাখবেন,শুধু ব্যাক্তিগত আমল নিয়ে আপনি বেশিদিন নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন না। আপনি যে দেশে বাস করেন,যে সমাজে বাস করেন,যে পরিবারে বাস করেন- সেখানে ’ ইসলাম’ এর বিজয় নিয়ে আপনাকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে।ইসলাম বিরোধীদের কে প্রতিহত করার মত আপনার জ্ঞান অর্জন করতে হবে,বই পড়তে হবে,সম-সাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে সতর্ক ও সচেস্ট থাকতে হবে।
ইসলাম ইজ এ কমপ্লিট কোড অফ লাইফ! ইসলাম শুধু রিচুয়ালিস্টিক কোনো ধর্ম না। ইসলাম ইজ এ কমপ্লিট প্যাকেজ; এটাই ইসলামের সৌন্দর্য ; ইসলাম কে কেবল ব্যাক্তিগত আমল নয়, ইসলাম কে আশেপাশে,পরিবারে,সমাজে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়ার কাজে নিয়োজিত হতে হবে। কারণ, মানুষকে আল্লাহ পৃথিবীতে খলিফা হিসেবে পাঠিয়েছেন। তার দায়িত্ব হলো দীন প্রতিষ্ঠা করা, মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা, এবং সমাজে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা।
মহান আল্লাহ তা’আলা কুরআন এ বলেছেন,
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রভু ফেরেশতাদের বললেন, ‘আমি পৃথিবীতে একজন খলিফা (জায়নাশীন) সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।’(২:৩০)