মেয়েদের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস খুব বেশি চোখে পড়ে ইদানিং। তবে দ্বীন বোঝা আপুদের মধ্যে এই tendency বেশি দেখে একটু কষ্ট লাগে। হ্যা, আমি সহমত আপনাদের সাথে যখন আপনাদের নিজেদের অর্থহীন, মূল্যহীন মনে হয় । সারাদিন সংসার , সন্তান সামলে যখন হাজার টা অভিযোগ- অনুযোগ শোনেন তখন নিজেকে একটা কলুর বলদ ছাড়া কিছুই মনে হয় না। আমি সম্পূর্ন একমত, এরকমই লাগে। তবে আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এ ভোগা কি উচিত?

আপনি শিক্ষিতা, আপনি অনেক কাজের যোগ্য। সমাজে আপনার কন্ট্রিবিউশন অনেক ইতিবাচক হবে যদি আপনি কর্মক্ষেত্রে থাকেন। সব মানলাম। তবে একটা কথা বোনেরা, যে ঘরটার দায়িত্ব আল্লাহ্ আপনাকে দিয়েছেন সেটার মাকড়সার জাল পরিস্কারেও সাওয়াব আছে।

জ্বি! অবশ্যই আপনি হেলপিং হ্যান্ডস দিয়েও এই কাজ করিয়ে নিতে পারবেন তবে আপনার তত্ত্বাবধায়ন টা আর কেউ এত সুন্দর করে করতে পারবে না। তাই নিজের ঘর সামলানোর জন্য যদি জব ছাড়তে হয় সেখানে এই চিন্তা করতেই পারেন যে আপনার মত যত্ন করে অন্য কেউ কি করবে কাজটা? ঠিক একই ভাবে আপনার যেখানে নিজের ঘর দেখার জন্য অন্য কোনো বেটার অপশন নাই আপনি ছাড়া সেক্ষেত্রে একই প্রশ্ন করা কিন্তু অবান্তর নয়।

এখানে working and non working mom বা wife নিয়ে বিতর্ক করা টা আমার উদ্দেশ্য না। বরং একটাই কথা বলতে চাই, কেউ সব কিছু সামলে সমাজের সেবা করছেন , তার প্রায়োরিটি ঠিক থাকলে তাকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যে পারছে না তাকে যেন আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এ না ভোগাই। একেক জনের জীবনের পরিস্থিতি একেক রকম সেটা যেন বুঝি। কারো সাথে তুলনায় না যাই।

যে higher education নিয়ে সকল প্রায়োরিটি ঠিক রেখে কিছু একটা করছে তাকে যেমন একমাত্র মানদণ্ড ধরা ঠিক না, তেমনি যে কিছুই করতে পারছে না, শুধুই বাচ্চা পালছে তাকেও ছোট করা বা সমাজের lesser contributor ধরে তার মাতৃত্ব কে, তার choice কে অবজ্ঞা করাটাও ঠিক না।

মধ্যমপন্থা ব্যাপারটা কী আসলে সেটা বোঝা খুবই জরুরী। নাহলে কেউ কারো মানসিক যাতনা থেকে মুক্তি পাবে না। আমরা সবাই শান্তি চাই, মুক্তি চাই। একটা কথা মনে রাখবেন, যার যেখানে কাজ সেখানেই তার মুক্তি, সেখানেই তার শান্তি। কাজের জায়গা টা আপনার choice.

তাই আপুরা নিজের অবস্থান টা মানুষের সামনে পরিষ্কার না করে আল্লাহের সামনে পরিষ্কার রাখুন। সুখে থাকুন , শান্তিতে থাকুন ইনশা আল্লাহ্।